নীল রায়
দলের কোর কমিটির বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের তিন নেতাকে নির্দেশ নিয়েছিলেন ইভিএম ও ভিভিপ্যাট নিয়ে দলের জেলা স্তরের নেতা কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এই যে ২৫ ফেব্রুয়ারী দেওয়া সেই নির্দেশের পর প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেলেও এবিষয়ে কোনও উদ্যোগ শুরু হয়নি। তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দমদমের সাংসদ সৌগত রায় ও ব্যারাকপুরের সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদিকে এই দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা স্বয়ং। গত সপ্তাহে এ বিষয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, “সময় মতো সব কিছু শুরু হবে।” নির্দেশ দেওয়ার সময়, তৃণমূল সুপ্রিমো অভিযোগ করেছিলেন, “কেন্দ্রের ক্ষমতাবলে ভোটে জেতার জন্য ইভিএম ও ভ্যামপ্যাড (মুখ্যমন্ত্রী এই উচ্চারণই করেছিলেন) ট্যামপার করতে পারে বিজেপি। তাই ইভিএম ও ভ্যামপ্যাড মুখ্যমন্ত্রী এই উচ্চারণই করেছিলেন) নিয়ে কাউন্টিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ জরুরি। এর মধ্যে লোকসভা ভোটের জন্য ১২ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হলেও, ইভিএম ও ভিভিপ্যাট প্রশিক্ষণ নিয়ে মৌনই থেকেছে তৃণমূল। নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ভবনে এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তৃণমূল ভবনে কর্মরত এক কর্মীর কথায়, এমন কোনও প্রশিক্ষণ হতে তারা দেখেননি। বা এমন কোনও প্রশিক্ষণ হতে পারে বলেও নূন্যতম আলোচনাও শোনেননি। তাই প্রশ্ন উঠছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ কেবলই মৌখিক নির্দেশই থেকে যাবে? কারন, তৃণমূলের সংগঠনিক জেলার সংখ্যা ২৫টি। এই ২৫টি জেলার কাউন্টিং এজেন্টদের জন্য যে প্রশিক্ষণ পরিকাঠামো দরকার তা তৃণমূল ভবনে নেই। আর যে কোনও মুহূর্তে ভোটের ঘোষনা হয়ে যাবে। তখন তিন দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতার মধ্যে দুজন সৌগত রায় ও দীনেশ ত্রিবেদী নিজ নিজ লোকসভা কেন্দ্র নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরবেন। তাই এই ইভিএম ও ভিভিপ্যাট নিয়ে যে প্রশিক্ষণের নির্দেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছিলেন, তা নিছকই নির্দেশ হয়ে থেকে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news