পার্থসারথি পাণ্ডা
সাবর্ণ চৌধুরীদের পূর্বপুরুষ ছিলেন জমিদার লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার। এখন আমরা যে অঞ্চলটিকে বি.বি.ডি বাগ বা ডালহৌসি স্কয়্যার বলি, সতেরো শতকের শেষ দশকে কলকাতায় জোব চার্ণক আসার আগে সেখানেই তাঁর কাছারি বাড়ি ছিল। তখন সেই অঞ্চলে সেটাই ছিল একমাত্র পাকা বাড়ি। তার পাশে ছিল তাঁদের প্রাচীন গৃহদেবতা শ্যামরায়ের মন্দির। প্রতিবছর এখানে খুব ঘটা করে শ্যামরায়ের দোল উৎসব হত। মন্দিরের পাশে ছিল বেশ বড় একটি দিঘি। উৎসবের সময় লাল আবির ও কুঙ্কুমের রঙে দিঘির জল হয়ে যেত এক্কেবারে লালে লাল। এমনকি সামনে যে ছোট্ট বাজারটি ছিল, তার রাস্তাঘাটও লাল আবিরে রাঙা হয়ে উঠত। এই দোল উৎসবের পরম্পরা থেকেই লোক মুখে ধীরে ধীরে দিঘিটির নাম হয়ে গেল, ‘লাল দিঘি’ এবং বাজারটির নাম হয়ে গেল, ‘লাল বাজার’।
পরে জোব চার্ণক সাবর্ণদের এই কাছারি বাড়িটি বেশ মোটা টাকায় ভাড়া নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অফিস খুলে বসলেন। তখন শ্যামরায়কে নিয়ে যাওয়া হল কালীঘাটে। কালীঘাটের কালী মন্দির সাবর্ণদেরই অধিকারে। তাই এই মন্দিরের পাশে আর একটি মন্দির তৈরি করা হল। সেখানে প্রতিষ্ঠা করা হল শ্যমরায়কে। আজও তিনি সেখানে পূজিত হন, আজও সেখানে তাঁর দোল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। তবে আমি যে সময়ের কথা বলছি, সেই সময় সারাবছর কালীঘাটে থাকলেও দোলের সময় শ্যামরায়কে লাল দিঘির মন্দিরে আনা হত ও খুব ধুমধাম করে দোল উৎসব হত। কিন্তু এই ঐতিহ্যে ছেদ পড়ল ১৭০৯ সালে এসে।
১৭০৯ সালে ইংরেজদের হাতে দিঘির সংস্কার হল, চারপাশে বাহারি গাছ লাগিয়ে বাগান বানিয়ে তৈরি হল তাদের প্রমোদকানন। আমোদের জায়গা। সেখানে নবাগত ইংরেজ পরিবারগুলোর ভিড় বাড়ল এবং এর চৌহদ্দির মধ্যে ভারতীয়দের ঢোকা মানা হয়ে গেল। সেইসঙ্গে দিঘিটি হয়ে উঠল এই অঞ্চলের ইংরেজদের পানীয় জলের ভাণ্ডার। ফলে জল পরিশুদ্ধ রাখতে এই সময় থেকেই এখানে শ্যামরায়ের দোল খেলতে আসাও বন্ধ হয়ে গেল। তবে, শ্যামরায়ের সেই দোল উৎসবের স্মৃতি বুকে নিয়ে কলকাতার পাঁচশো বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও রয়ে গেছে ‘লাল দিঘি’।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news