নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট:
জমকালো আলোর রোশনাই, বাঁ ঝাঁ চকচকে মণ্ডপ কোনওটাই নেই হিলির গোবিন্দপুরের পূজো মণ্ডপে । ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের কাঁটা তারের মাঝে অবস্থিত এই গ্রামের পূজো আজও বহন করছে দুই দেশের সংস্কৃতি ও সম্প্রীতি । গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে ১৯৫৫ সাল থেকে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’এ ভারতীয়দের এই পূজো । যে পূজোয় শুধু গোবিন্দপুর গ্রামের ৪৫টি পরিবারই নয়, ভারতীয় কাঁটা তারের এপারের বেশ কিছু গ্রাম ও বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার রামচন্দ্রপুর, দক্ষিণ দামোদরপুর, কাতলা সহ বেশকিছু গ্রামের হিন্দু মুসলিমরা সামিল হন । পূজোর কয়েকদিন দুই দেশের ও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনক্ষেত্রে মাত্রা যোগাতে এলাকায় আয়োজিত হয় মেলাও । বিএসএফ ও বিজিবির নিরাপত্তা থাকলেও এই আনন্দে কিছুটা উৎসাহ যোগাতে শিথিল করা হয় সীমান্তের কড়া নজরদারি ।এমনি সময় সকাল ছয়টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত বিএসএফের ভরসায় ওপার থেকে গেট খুলে চলে তাদের আসা যাওয়া । পূজো এলে অবশ্য সেই চিত্রটা কিছুটা বদলায় । বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসবের কারণে পূজোর এই কয়েকটি দিনে গ্রামবাসীদের জন্য রাত্রি ১০টা থেকে ১১টা অবধি গেট খোলা রেখে আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ দেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী । গোবিন্দপুর সার্ব্বোজনীন দুর্গোৎসব কমিটি নামে এলাকায় রয়েছে একটি কমিটি । যারা ওই এলাকায় প্রায় ৪৫টি পরিবারের সদস্যদের কাছে থেকে চাঁদা তুলেই পরিচালনা করেন পূজো । সাহায্য মেলে সরকারি ভাবে । পূজোর আবহ তৈরি হতেই সেই গ্রামে শুরু হয়েছে মণ্ডপ সাজানো থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ । স্থানীয় শিল্পী ও স্থানীয় পুরোহিত দিয়েই চলে পূজো অর্চনার কাজ ।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news