নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া:
সেই রাজাও নেই, নেই রাজত্বও। তবুও আজও রাজকীয় পরম্পরা বহন করে চলেছে রাজ্যের অন্যতম মল্ল নগরী বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর। প্রাচীন এই শহরের আনাচে কানাচে লুকিয়ে রয়েছে কত ইতিহাস। টেরাকোটার মন্দিরে সাজানো শহর, দলমাদলের বিষ্ণুপুরে কানপাতলে শোনা যায় মল্লরাজা-রানিদের গল্পগাথা।
প্রথা মেনেই শুরু হয়ে গেল বিষ্ণুপুর রাজবাড়ির দুর্গোৎসব। বিষ্ণুপুর মল্ল রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। হাজার বছরের প্রাচীন এই পুজো আজও ইতিহাসের সাক্ষ্য বয়ে বেড়াচ্ছে। রাজা জগৎ মল্ল ৩০৩ মল্লাব্দে ( বাংলা ৪০৪ বঙ্গাব্দ, ইং ৯৯৭ খ্রীষ্টাব্দ ) এই পুজো শুরু করেন মল্ল রাজধানীতে। দুর্গাপুজোর পনেরো দিন আগেই জিতা অষ্টমীর পরের দিনই প্রথা মেনে শুরু হয়ে যায় এই পুজো। নিয়ম মেনে বংশ পরম্পরায় ফৌজদার পরিবারের আঁকা পটে আজও পটের দেবীর পুজো হয় এই রাজবাড়িতে। বড় ঠাকরুণ অর্থাৎ দেবী মহাকালীর আগমন হল আজ। হস্ত লিখিত নারায়ণী পুঁথি মেনে ন’বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে মহা সাড়ম্বরে গোপাল সায়র থেকে স্নান করিয়ে নিয়ে আসা হল দেবী মহাকালী অর্থাৎ বড় ঠাকুরানীকে। মেজ ঠাকুরানী বা দেবী মহালক্ষীকে একই ভাবে মন্দিরে আনা হবে মান চতুর্থীতে আর ছোট ঠাকুরানী বা দেবী মহা সরস্বতী আসবেন মহা সপ্তমীতে। রাজ বাড়ির পুজো ঘিরে সাজো সাজো রব বিষ্ণুপুরে। দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ এসেছেন এই রাজবাড়ির ঐতিহাসিক পুজোর আমেজ নিতে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news