
পার্থসারথি পাণ্ডা:
শ্রীকৃষ্ণ বিষ্ণুর অবতার হলেও, মানুষ। তাই মৃত্যুর পর তাঁকে যখন দাহ করা হল, সাধারণ মানুষের মতো তাঁর নাভিপদ্মও পুড়ল না। শ্রীকৃষ্ণ জানতেন পুড়বে না। তাই জরা ব্যাধ যখন ভুল করে তাঁকে তিরে বিদ্ধ করে মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠল এবং নিজের ভুল বুঝতে পেরে তাঁর পায়ে পড়ে ক্ষমা ভিক্ষা চাইতে লাগল অত্যন্ত কাতর হয়ে, বিলাপ করতে লাগল; তখন তাকে ক্ষমা করে মুক্তির উপায় বলে দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, হে শবর, তোমার শরে আমার মৃত্যু হচ্ছে বটে, কিন্তু এতে তোমার কোন দোষ নেই। এ আমার দুই জন্মের নির্ধারিত নিয়তি। তুমি তো নিমিত্ত মাত্র। এখন শোক করো না, আমার কথা শোন, আমার এই নশ্বর মানব শরীর দাহ করার সময় যে অদাহ্য নাভিপদ্ম অবশিষ্ট থাকবে তা তুমি গ্রহণ করো, ‘নীলমাধব’রূপে ভজনা করো। তোমার মঙ্গল করবো, শবরজাতির মঙ্গল করবো, জগতের মঙ্গল করবো।
জরা সেই নাভিপদ্ম পেয়ে তো আনন্দে আত্মহারা। মোক্ষের উপায়, অমূল্য ধন পেয়েছে সে! তা কি সবার চোখের সামনে রাখা যায়! নাভিপদ্ম নিয়ে সে পুত্রপরিবারের সঙ্গে গোপনে পাড়ি দিল নির্জন নীলগিরির পথে। জঙ্গল ও দুর্গম পর্বত প্রদেশে গিয়ে বসতি গড়ে তুলল এবং ততোধিক দুর্গম এক গুহায় নাভিপদ্ম রেখে নীলমাধবের পুজো করতে লাগল। এমনি করে কাটতে লাগল দিন। তার সন্ততিদের বাড়বাড়ন্ত হল। বাইরে থেকে অনেক শবর এসে সেখানে বাস করতে এলো। গড়ে উঠল শবর রাজ্য। ততদিনে জরার মৃত্যু হয়েছে। শবর রাজ্যের রাজা হয়েছে তারই বংশধর বিশ্বাবসু। এতদিন কেটে গেল তবু সাধারণ শবররাও জানতে পারলো না নীলমাধবের কথা। তাই নীলমাধব সাধারণের পুজো পান না, সান্নিধ্য পান না। তাঁর একমাত্র পূজারী বিশ্বাবসু। জরার উত্তরাধিকারী পুরুষেরাই শুধুমাত্র জানে নীলমাধবের সন্ধান। এভাবে নির্জনে ব্যক্তিগত ঈশ্বর হয়ে থাকতে আর ভালো লাগছিল না, তিনি হাঁপিয়ে উঠলেন। তিনি চাইলেন ব্যষ্টি থেকে সমষ্টির ঈশ্বর হয়ে উঠতে। নীলমাধবের এই চাওয়া আসলে বিষ্ণুরই চাওয়া। আর সেই চাওয়া থেকেই সূত্রপাত হল আর এক কাহিনীর। সেই কাহিনী শোনাবো চতুর্থ পর্বে, কাল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news