সল্টলেকের স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে বাড়ি ফিরলেন মুকুল রায়।
ফিরলেন, তবে ভগ্নহৃদয়ে, চূড়ান্ত দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে, অত্যন্ত অসুস্থ স্ত্রী কে বাইপাসের একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইরত অবস্থায় রেখে, পুত্রবধূর হাত ধরে কাঁচড়াপাড়ার বাড়িতে ফিরলেন মুকুল।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে এতদিন সল্টলেকের বাড়ির তিনতলায় নিজেকে বন্দি রেখেছিলেন মুকুল রায়। তিনি বাড়িতে আইসোলেসনে থাকলেও, তাঁর স্ত্রী কৃষ্ণা দেবী কভিডে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর জটিলতা ক্রমেই বাড়তে থাকে। ফুসফুসের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে।

আজ মঙ্গলবার অবস্থা আরও শোচনীয় হয়। ভেন্টিলেসনে দেওয়া হয় তাঁকে। এতটা বাড়াবাড়ির খবর আগে মুকুল কে দেননি তাঁর পরিজনেরা। তবে আজ, চিকিৎসক নিজেই তাঁকে প্রকৃত অবস্থা টা জানিয়ে দেন। বিশেষ স্টেরয়েড দিয়ে শেষ চেষ্টা করে দেখতে চান চিকিৎসকেরা। আজ সকালে মেডিকেল বোর্ড বসে। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় শেষ চেষ্টা করে দেখার। ৭২ ঘন্টা সময় দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
এদিন স্ত্রীর স্বাস্থ্যের এ হেন অবস্থার কথা জেনে দৃশ্যতই ভেঙে পড়েন মুকুল। তাঁকে আর সল্টলেকের বাড়িতে না রেখে কাঁচড়াপাড়াতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন পরিজনেরা। তাঁদের আশা, সেখানে নাতি নাতনির সঙ্গ পেয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি বোধ করতে পারেন ‘পিতামহ’ মুকুল রায়।

মুকুল-পত্নী কৃষ্ণা দেবী তৃণমূলের প্রায় সব নেতাদেরই ‘প্রিয় বৌদি।’
সিঙ্গুরের ধর্নার দিনগুলোতে রোজ রাতে যে ডিমের ডালনা আর ভাত নিয়ে শুভ্রাংশু পৌঁছতেন টাটা কারখার গেটে, সেই খাবার ও এক সঙ্গে বসে খাওয়ার স্মৃতি আজও অমলিন তৃণমূলের ছোট বড় অনেক নেতার মনে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কৃষ্ণাদেবীর সখ্যতা দীর্ঘদিনের। সাংসদ যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর পুত্রবৎ।
আপাতত কৃষ্ণাদেবী কে আবার নিজেদের মধ্যে পেতে চিকিৎসকের হাতযশ আর ঈশ্বরের কৃপার ওপর ভরসা করছে রায় পরিবার।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news