অচিন্ত্য বিশ্বাস
কর্ণাটক নির্বাচনে ১০৪টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয়েছিল বিজেপি । ম্যাজিক নাম্বারের থেকে অদূরেই থমকে যায় বিজেপির জয়যাত্রা। আর সুযোগ বুঝে জোট করে সরকার গঠনের দাবি জানায় কংগ্রেস ও জেডি এস । এদিকে রাজ্যপাল ইয়েদুরাপ্পাকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানান আর এরফলেই দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া শুরু হয় । অনেকেই বলছেন, বিজেপি যেহেতু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, তাই তাদের সরকার গড়তে ডাকা ঠিক হয়নি। শুধু তাই নয়, একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল নিয়ে এর আগে কংগ্রেস মেঘালয়ে এবং তারও আগে গোয়ায় সরকার গঠনের ডাক পায়নি। এই দুই জায়গায় বিজেপি জোট করে সরকার গঠন করেছিল । ফলে কর্ণাটকে বিজেপি কেন? এই নিয়ে কংগ্রেস এবং সিপিএম সমবেতভাবে বিজেপি বিরোধী কুৎসা চালিয়ে গিয়েছে । তবে তারা একটি কথা ভুলে যাচ্ছে- গোয়া ও মেঘালয়ে বিজেপি প্রাক নির্বাচনী জোট করেছিল। অন্যপক্ষে কর্ণাটকে কংগ্রেস ও জেডি এস মুখোমুখি পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে । জেডি এস নেতা কুমারস্বামী চামুণ্ডেশ্বরী কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়েছেন। ফলে তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন প্রক্রিয়া অনৈতিক বলাই যায়। আরেকটি বিষয়, আমাদের সংবিধান রাজ্যপালকে যে অধিকার দিয়েছে তাতে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতাকে ডাকবেন, না প্রাক নির্বাচনী জোটকে নির্বাচন পরবর্তী জোটের তুলনায় বেশী গুরুত্ব দেবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও নির্দেশ নেই। বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতে কিছু বিপরীত ধর্মীর রায় আছে । ফলে এব্যাপারে রাজ্যপালের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। অন্তত তাই হওয়ার কথা। এখন বিজেপির ইয়েদুরাপ্পার আড়াই দিনের সরকার গঠন ও বিধানসভায় আস্থা ভোটের আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর মতো পদত্যাগ পত্র প্রদানের পর একটি কথা চারপাশে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যেন বিজেপি তার অনৈতিক ঘোড়া কেনাবেচা ( আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায় হর্স ট্রেডিং) করার চেষ্টা করছে । এর প্রমাণ অবশ্য মেলেনি। উপরন্তু জেডি এস এবং কংগ্রেসের সমস্ত বিধায়কদের ৫ তারা হোটেল ও রিসর্টে প্রায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে এখনও স্বেচ্ছায় বাড়ির লোকেদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। একটি রিসর্টে হঠাৎ করে এটিএম মেশিন বসানো হয়েছে যাতে রহস্যজনকভাবে লেনদেন হচ্ছে। এসব কারা এবং কেন করছে বোঝা যাচ্ছে না। বিজেপির বিরুদ্ধে ঘোড়া কেনাবেচার কথা যারা বলছেন( বিশেষ করে মমতা বন্দোপাধ্যায়) তাঁর রাজ্যে দলের বিরোধী দলের বিধায়কদের অক্লেশে কেনাবেচা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা মানস ভুঁইয়া দলত্যাগ করে শাসকদলে নাম লিখিয়েছেন। কিন্তু দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচার জন্য বিরোধী দলের আসন ত্যাগ করেননি। এমনকি পাব্লিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সভাপতি থেকে গিয়েছেন। এখানে কোনও নৈতিক অধঃপতন হয়নি কী? পরে ইনিই রাজ্যসভার সদস্য হয়েছেন এবং তখন পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ।
কংগ্রেস রাজ্যপালদের নিয়ে হেন অন্যায় নেই যা করেনি। অপরাধের তকমা সরাতে দিল্লির পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী শীলা দিক্ষিতকে রাতারাতি রাজ্যপাল করে দেওয়া হয়েছে। এরকম উদাহরণ কংগ্রেসের ঝুলিতে ঝুড়িঝুড়ি রয়েছে । তাদের মুখে নৈতিকতার কথা মানায় না। কংগ্রেসের অনৈতিকতার গঙ্গোত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গাঁধী । ১৯৬৯এ তিনি কংগ্রেসের রাষ্ট্রপতির পদপ্রার্থী নীলম সঞ্জীব রেড্ডিকে হারানোর জন্য বামেদের সহযোগিতায় শ্রমিক নেতা বরাহগিরি ভেঙ্কটগিরিকে সমর্থন করেন এবং লোকসভায় দাঁড়িয়ে কংগ্রেস নেতাদের বিবেক ভোট দেওয়ার আবেদন করেন। ফলে কংগ্রেস হেরে যায়।বরাহগিরি ভেঙ্কটগিরি রাষ্ট্রপতি হন। বস্তুতপক্ষে ভারতীয় রাজনীতিতে এর থেকে বড় ঘোড়া কেনাবেচা হয়েছে বলে জানা নেই। সুতরাং বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় মিলে প্রথমকে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরে সরানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এবং বড় মুখ করে প্রথমকে অনৈতিক বলে দাবিয়ে দিতে চাইছেন । বিষয়টি হাস্যকর বললেও কম বলা হয়।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news