নীল রায়
রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদে আটকে কংগ্রেস ও সিপিএমের জোট রথের চাকা। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে এই যুগলবন্দী মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ফলস্বরূপ, গত দু বছর রাজ্যের কোনও উপনির্বাচনে আর পাশাপাশি দেখা যায়নি তাদের। কিন্তু লোকসভা ভোটের প্রহর গণনা শুরু হতেই ফের দুই শিবিরেই জোট তৎপরতা। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র কিংবা পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র, উভয়ের কন্ঠেই পরস্পরের হাত ধরা ইঙ্গিত মিলেছে। কিন্তু তাদের এই উদ্যোগ ধাক্কা খেতে পারে রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ লোকসভায় এসে। সম্প্রতি সিপিএম রবীন দেব জোট নিয়ে সোমেন মিত্র ও আব্দুল মান্নানের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। দু-একটি ফোনালাপেই যে জোট হয়ে গিয়েছে এমন কথা বলার সময় আসেনি, মত রাজনৈতিক মহলের। কারণ সিপিএমের ফর্মুলায় জোট হলে কংগ্রেসের একটি অংশ তাতে সায় দেবে না বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। মুজাফফর আহমেদ ভবন জোট গঠনের যে অংক কষেছে, তা হল ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যে যেখানে প্রথম হয়েছিল সেই আসনটি তাকেই ছেড়ে দিতে হবে। আর যে যেখানে দ্বিতীয় হয়েছিল তাকে সেখানে তাদের প্রাধান্য দিতে হবে। মুর্শিদাবাদ জেলার মুর্শিদাবাদ আসনে সিপিএম প্রার্থী বদরুদ্দোজা খান জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী মান্নান হোসেনকে হারিয়ে। আর উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ আসনে দীপা দাশমুন্সি মাত্র দেড় হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন মহম্মদ সেলিমের কাছে। সিপিএমের ফর্মুলা অনুযায়ী এই দুটি আসন কংগ্রেস কোনও ভাবেই দাবি করতে পারবে না। আর এই দুটি আসন ছাড়া কোথাও যেতে হতে পারেনি কংগ্রেস। এ প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, “মুর্শিদাবাদ ও রায়গঞ্জ আসলে যেহেতু সিপিএমের সাংসদরা রয়েছেন। তাই এই দুটি আসন ছেড়েই আলোচনা শুরু করা উচিত। তারপর যে যেখানে দ্বিতীয় হয়েছে সেই আসনগুলি শক্তির নিরিখে তাদের ছাড়া উচিত বলেই আমরা মনে করি।” প্রসঙ্গত, অধীর চৌধুরী ইতিমধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় তিনটি আসনে জিতবেন বলে হুংকার ছেড়েছেন। রায়গঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে দীপা দাশমুন্সির নাম স্বাভাবিকভাবেই বিধান ভবনের তালিকায়। এই আসন থেকেই সাংসদ ছিলেন প্রয়াত নেতা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। আবার তার অসুস্থতার সময় ২০০৯ সালে এই আসন থেকে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন দীপা। পরে কেন্দ্রীয় নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন মনমোহন সিং মন্ত্রিসভায়। এমতাবস্থায় এই দুটি আসন নিয়েই টানাপোড়েন শুরু হয়েছে জোট আলোচনার আগেই। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেছেন, “জোট না হলেও বর্তমানের চারটি আসন ধরে রাখার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ ও রায়গঞ্জ লোকসভা আমরা জিতব।” মুর্শিদাবাদ আসনের ক্ষেত্রে যেমন সুর চড়িয়ে রেখেছেন অধীর। রায়গঞ্জের জন্য কংগ্রেসের হয়ে জোরালো সওয়াল করেছেন জোটপন্থী কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান। তার কথায়, “প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি রায়গঞ্জে এইমস হাসপাতাল গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তা গুড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি ও রাজ্যের তৃণমূল সরকার। এইমস হাসপাতাল না হতে পারা ওই এলাকার মানুষের কাছে বিরাট ধাক্কার বিষয়। রায়গঞ্জের এইমস যেহেতু প্রিয়দার মস্তিষ্ক প্রসূত। তাই এইমস হাসপাতাল না হওয়ার বিষয়টি সেখানকার মানুষের ভাবাবেগে জড়িয়ে গিয়েছে।ওই আসন কংগ্রেস ছাড়া আর কেউ জিততে পারবে না।” সিপিএম-কংগ্রেস নেতাদের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি দেখে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, কলকাতা পৌছানোর আগে ভাগীরথীর তীরেই সলিল সমাধি হতে পারে কংগ্রেস সিপিএম জোটের।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news