ওয়েব ডেস্ক
পাকিস্তানের বালাকোটে জৈশ-এ-মহম্মদের জঙ্গি ঘাঁটিতে বিমানহানার বিষয়টি জানত মাত্র ৭ জন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, স্থল সেনা, বায়ু সেনা, নৌ সেনা, র ও আইবির অধিকর্তারা। এদের মধ্যে যারা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে তারা হল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’। পুলওয়ামা হামলার পরই ভারতীয় সেনাবাহিনী জৈশ-এ-মহম্মদের জঙ্গিদের খতম করার হোমওয়ার্ক শুরু করে। র বা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যানালিসিস উইং’ কে দায়িত্ব দেওয়া হয় টার্গেট স্থির করার জন্য। র-কে বলা হয় ১) এমন একটি টার্গেট ঠিক করতে বলা হয়, যেখানে আঘাত করলে জৈশ-এ-মহম্মদকে সঠিক বার্তা পাঠানো যাবে। ২) এমন একটি টার্গেট যেখানে হামলা করলে পুলওয়ামার যোগ্য বদলা নেওয়া যাবে, ৩) এমন একটি জায়গা খুঁজতে হবে, যেখানে আঘাত করলে পাকিস্তানের সাধারন নাগরিক কোনওরকমভাবে প্রভাবিত হবে না বা আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলির বিরুপ নজরে পড়বে না, ৪) এমন একটি জায়গা চিহ্নিত করতে হবে যেখানে আঘাত করলে তা বদলা মনে হবে না বরং ভারতের আত্মরক্ষার তাগিদ বলে মনে হবে। র তদন্ত করে ৬টি জায়গা শর্টলিস্ট করে। এরমধ্যে সবথেকে ওপরে ছিল বালাকোটে জৈশের সবথেকে বড় জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যার মাথা ছিল মাসুজ আজহারের শ্যালক ইউসুফ আজহার। বলা বাহুল্য, প্রথম টার্গেটকেই পছন্দ করে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান। ১৮ই ফেব্রুয়ারি এই অপারেশনকে ‘গো অ্যাহেড’ দেন প্রধানমন্ত্রী । এরপরই প্রস্তুতি শুরু করে বায়ুসেনা। অপারেশনের সময় সারারাত চোখের পাতা এক করতে পারেননি মোদি, ডোভাল, দুই গোয়েন্দা সংস্থা ও তিন সেনার প্রধান।
রাত ১.৩০য় গোয়ালিয়র থেকে ওড়ে মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান। অন্যান্য এয়ারবেস থেকে টেক অফ করে সুখোই বিমান। ভোর ৪টেয় অবতরন করে তারা। এরপরই প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমনকে ফোন করে ঘটনাটি জানানো হয়। ভারতীয় বায়ুসেনার হানায় খতম হয় জৈশ-এ-মহম্মদের মৌলানা ইউসুফ আজহার, মুফতি ওমর, মৌলানা জাভেদ, মৌলানা আব্দুল গফুর কাশ্মীরী, মৌলানা আসলাম, মৌলানা আজমল ও মৌলানা জুবের সহ ২৫জন জঙ্গি নেতা।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news