নিজস্ব সংবাদদাতা, কালিয়াচক :
গোপনে টেন্ডার করে দুর্নীতিসহ স্বজন পোষণের অভিযোগ উঠল তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে। এমনই অভিযোগ তুলল তৃণমূলেরই পঞ্চায়েত সদস্যরা। এমনকি জোর করে প্রাণে মেরে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টেন্ডার পত্রে সদস্যদের স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ প্রধানের বিরুদ্ধে।
ঘটনা মালদার কালিয়াচক ১নং ব্লকের জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের। প্রধানের বিরুদ্ধে ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে তার দলেরই ১২ জন সদস্য। দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ঘিরে আবারও প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল। সমস্ত অভিযোগ মিথ্যে বলে দাবি অভিযুক্ত প্রধানের।
জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত মোট আসন সংখ্যা ২৩টি। যার মধ্যে একটি বিজেপির দখলে, তৃণমূলের দখলে ১৫ টি ও কংগ্রেসের দখলে যায় ৭ টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন করে তৃণমূল। প্রধান হন মহম্মদ জুলফিকার। তারই বিরুদ্ধে এদিন কালিয়াচক ১ ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ দলেরই ১২ জন সদস্য। সাথে কালিয়াচক থানাতেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। এদিন জালালপুরগ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরের সামনে বিক্ষোপ দেখান তৃণমূল ১২ জন সদস্য মিলিত ভাবে।
পঞ্চায়ের সদস্যদের রবিউল ইসলামের অভিযোগ, এই প্রধান দুর্নীতির আঁতুরঘর বানিয়ে ফেলেছে পঞ্চায়েত অফিসকে। দলেরই মহিলা সদস্য নাজেমা বিবিকে বাড়িতে গিয়ে প্রাণে মেরে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টেন্ডার পত্রে স্বাক্ষর করিয়েছে প্রধান। দলের ১২ জন সদস্যদের তোয়াক্কা না করেই তিনজন তৃণমূল সদস্য ও কংগ্রেসের কিছু সদস্যদের নিয়ে ৩৯ লক্ষ টাকার গোপন টেন্ডার করেছে। কিন্তু কোনো কাজ নাই এলাকায়। কি করছে টাকা কিছুই বলতে চাইছে না প্রধান। স্বজন পোষণ করে আত্মসাধ করতে চাইতে টাকা তাই এই প্রধানের অপসারণ ও উচিত শাস্তি চাই। এদিন ব্লক প্রশাসন সহ পুলিশের কাছে লিখিত ভাবে অভিযোগ জানিয়েছি।
যদিও সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি প্রধান মহম্মদ জুলফিকারের। তিনি বলেন,কাজ করার জন্য ৩৯ লক্ষের টেন্ডার করার উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু যে সমস্ত অভিযোগ করা হচ্ছে আমার বিরুদ্ধ তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কারণেই আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও সঞ্চালক নাজেমা বিবির বাড়িতে গিয়ে টেন্ডার পত্রে স্বাক্ষর করানোর কথা স্বীকার করেছেন প্রধান।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news