নীল রায়:
বিদায়ী সাংসদ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর বেজায় ক্ষুব্ধ ফুরফুরা শরিফ। শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে ফুরফুরা শরীফের অন্যতম পীরজাদা আব্বাসউদ্দিন সিদ্দিকী একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন। ডানকুনি থেকে ফুরফুরা শরীফ পর্যন্ত রেলপথ না তৈরি হওয়া থেকে শুরু করে, ফুরফুরা শরীফের সার্বিক উন্নয়ন না হওয়ায় সাংসদ কল্যানকেই দায়ী করেছেন তিনি।

আব্বাসউদ্দিন সিদ্দিকীর কথায়, সাংসদ হিসেবে চূড়ান্ত ব্যর্থ কল্যান বন্দোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা কোনও ক্ষেত্রেই দায়ী করছি না। তাঁর কাছে সঠিকভাবে তথ্য পরিবেশন না করার কারণেই এমনটা হয়েছে, তাও জানাতে ভোলেননি আব্বাস। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদাসীনতা ও চূড়ান্ত গাফিলতির কারণেই ফুরফুরা শরীফ উন্নয়নের মুখ দেখেনি বলেই মনে করছেন তাঁরা। ফুরফুরা শরীফের প্রয়াত পীরজাদার নামাঙ্কিত হাসপাতালের বেহাল দশা সহ একাধিক প্রকল্পে কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ হিসেবে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলেই অভিযোগ করছেন তিনি। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে প্রস্তাবিত আইআইটি কলেজটিও ফুরফুরা শরিফ থেকে সরিয়ে নিয়ে জাঙ্গিপাড়া চলে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে তাদের মনে। ফুরফুরা শরীফ উন্নয়ন পর্ষদ গঠন নিয়েও ক্ষোভের আঁচ পাওয়া গেল আব্বাসউদ্দিনের গলায়। তার কথায়, “কেন পরিষদ গঠন হয়েছিল! কারা এর সদস্য। কি তার কার্যকারিতা। কেউ জানেন না। শুধু মৌখিক আশ্বাস দিয়ে আমাদের ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে।” এক্ষেত্রেও তিনি দায়ী করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই। এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। তবে ফুরফুরা শরীফের প্রভাব বাংলার একাংশ মুসলমানদের মধ্যে যথেষ্ট। যে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকের আশায় রাজ্যের ৪২টি আসনেই জয়ের স্বপ্ন দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফুরফুরা শরীফের এহেন ক্ষোভ সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দিতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news