চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো:
রাজস্থানের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সচিন পাইলকে। মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে অশোক গহলৌতের সঙ্গে সচিনের মূল দ্বন্দ্ব মনে করা হলেও, সচিন সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। সচিনের বক্তব্য কোনও বিশেষ পদের লোভে নয় মর্যাদা ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে চেয়েছি। কিন্তু তা করতে দেওয়া হচ্ছে না। মঙ্গলবার সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন সচীন পাইলট।
মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌতের সঙ্গে সচিনের মনোমালিন্যের কারণ প্রসঙ্গে সচিনের উত্তর, “অশোক গহলৌতের ওপর আমার কোন রাগ নেই। আমি কোনও বিশেষ ক্ষমতা চাইনি। আমি শুধু চাই ভোটের সময় আমরা মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলো পূরণ করতে। কিন্তু গহলৌত ক্ষমতায় আসার পর কিছুই করছে না। বিজেপির পথেই চলছে। রাজস্থানের উন্নয়নের জন্য আমি এবং আমার অনুগামীরা কাজ করতে চাইলে, আমাদেরকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমরা সঠিক মর্যাদা ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি না। সেইজন্যই আমাদের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর।” গহলৌতের সরকার যে তাঁদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিচ্ছে না এই অভিযোগ একাধিকবার হাইকমান্ডকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি বলে জানিয়েছেন রাজেশ পাইলটের পুত্র। তিনি বলেন, “আমরা নিজেদের অসুবিধার কথা রাজ্যের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক অবিনাশ পাণ্ডেকে একাধিকবার জানিয়েছি। কিন্তু তিনি তা আমল দেন নি। অশোক গহলৌত তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত।”
মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত একাধিকবার অভিযোগ করেছেন তাঁর সরকার ফেলতে চাইছেন সচিন পাইলট। এবং তিনি ও তাঁর অনুগামীরা বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে চাইছেন। এ প্রসঙ্গে সচিনের মন্তব্য, “এই অভিযোগের কোনও সত্যতা নেই। আমি রাজস্থানে কংগ্রেসকে ক্ষমতায় আনতে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমি কেন আমার নিজের পার্টিকে ক্ষমতা থেকে সরাব।” সচিনের গতিবিধি যে বিজেপির দিকে রয়েছে সে কথা অশোক ঘনিষ্ঠরা একাধিকবার অভিযোগ করেছেন। তবে তা অস্বীকার করেন সচিন পাইলট। তিনি বলেন, ” আমি বিজেপিতে যাচ্ছি না। এখনও আমি একজন কংগ্রেস কর্মী। আমি আমার পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অনুগামীদের সঙ্গে আলোচনা করব।”
সচিনের সঙ্গে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ও বিজেপি ওম মাথুরের কথা হয়েছে বলে গুঞ্জন তৈরি হয় মরু অঞ্চলের রাজনীতিতে। সে প্রসঙ্গে সচিনের জবাব, “আমি কোনও বিজেপি নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। আমার সঙ্গে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার ৬ মাস কোনও যোগাযোগ নেই। ওম মাথুরের সঙ্গেও কোনও কথা হয়নি আমার।” রাহুল গাঁধীর কাছের লোক হিসেবে পরিচিত সচিন পাইলট। দলে এই কোণঠাসা অবস্থায় রাহুল বা সনিয়া গাঁধী কি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন? সচিনের উত্তর, রাহুল গাঁধী ও সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি। তবে প্রিয়াঙ্কা গাঁধী বঢরা আমাকে ফোন করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা হয়েছে।
সচিন পাইলট বিজেপিতে যাবেন কিনা সেটা সময়ই বলবে। তবে এখনও তিনি চান, মর্যাদা ও স্বাধীনভাবে কংগ্রেসে থেকে কাজ করতে। দলের এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কংগ্রেস নেতৃত্ব এই তরুণ নেতাকে হাতছাড়া করবেন কিনা সেই সিদ্ধান্তও দলের হাইকমান্ড। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান কংগ্রেসের যে নিদারুন অবস্থা তাতে সচিনের মতো তরুণ নেতাদের দলে রাখলেই উন্নতি হবে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news