Breaking News
Home / TRENDING / ও দাদা, সিগারেটের দাম বেড়েছে!

ও দাদা, সিগারেটের দাম বেড়েছে!

মূল হিন্দি রচনা: শরদ জোশী
অনুবাদ: পার্থসারথি পাণ্ডা

ভদ্রলোক এখন তিনিই, যিনি ভদ্রতা করে অন্যের দিকে সিগারেট এগিয়ে দেন এবং পুটুশ করে লাইটার জ্বালিয়ে সেটা ধরিয়েও দেন। সমাজে আজকাল তাঁরই কদর বেশি!

সিগারেট আসলেই অতীব অত্যাবশ্যক একটা জিনিস এবং তার দাম দিনকে দিন বেড়েই চলেছে অত্যন্ত অবাঞ্ছিতভাবে! আমার মদখোর বন্ধুদের চেয়ে সিগারেটখোর বন্ধুদের টেনশন তাই একটু অধিকমাত্রায় বেশি! এমতাবস্থায় কেউ সিগারেট দিলে বা অফার করলে সিগারেটখোরের আনন্দের আর অন্ত থাকে না!

আমাদের দেশে তিন ধরণের সিগারেটখোর চোখে পড়ে। একদল সিগারেট সঙ্গে রাখেন, কিন্তু মাচিস চেয়ে বেড়ান অন্যের কাছে। আর একদল আবার মাচিস সঙ্গে নিয়ে ঘোরেন, কিন্তু সিগারেট খান চেয়েচিন্তে। আর সর্বশেষ অর্থাৎ তৃতীয় দলটির মধ্যে তাঁরাই পড়েন, যাঁদের কাছে সিগারেট বা মাচিস কিছুই থাকে না। এঁরা অত্যন্ত আশা-বাদী! কেউ যদি খাওয়ায় তবে খাবেন– এই আশায় থাকেন। প্রায়শই দেখা যায়, এঁদের আশা পূরণ হয়ে যায়। কারণ, এঁরা হলেন সরকারের খাস চাকুরে! এঁদের কাছে যাঁরা কাজ হাসিল করতে আসেন, তাঁরা এঁদের সিগারেট ছাড়াও আরো অনেককিছুই খাওয়ান, যা এঁরা খেতে চান!

পরম্পরাগত এই সম্পর্ক ও মাধুর্য্যের অনুঘটক যে সিগারেট, তাতে আজকাল যেন শয়তানের নজর লেগেছে! যার ধোঁয়ার মেঘ মেঘদূত হয়ে জনসংযোগ ঘটায়, যার ধোঁয়ায় রোমান্টিক প্রসঙ্গের পরিবেশ তৈরি হয়, যা ফুঁকতে ফুঁকতে একজন ভারতবাসী কোন সিদ্ধান্ত নিতে বুকে বল পান, যা ফুঁকে আমরা আমাদের ইচ্ছে থেকে ঈর্ষা সমস্তই প্রকাশ করতে পারি, যা অফার করে কোন অপরিচিতের সঙ্গে আমরা পরিচিত হওয়ার বাহানা খুঁজি, সেই সিগারেট কিনা এখন মহার্ঘ্য! এর প্যাকেট যাঁর পকেটে থাকে, তিনি যেন তা গুপ্তধনের মতোই লুকিয়ে রাখতে চান আজকাল। কালো ধোঁয়ায় ঘেরা সিগারেট এখন ‘কালাধনে’র দুনিয়ায় যেন পা রেখেছে! হালে দামী সিগারেট তিনিই ধরাতে সাহস করেন, যাঁর ডায়ে বাঁয়ে অগুনতি আমদানি আছে। নিছক পরিশ্রম ও সততা দিয়ে দামী সিগারেট খাওয়ার দিন বহুদিন আগেই শেষ হয়ে গেছে!

তাই সৎ ও পরিশ্রমী ভারতবাসীদের এখনই বিড়ির পানে ফিরে আসা উচিত। কারণ, বিড়ির ধোঁয়াই ভারতবর্ষের প্রাচীন ধোঁয়া। বিড়ির কষ ভারতবর্ষের আত্মার কষ। ভারতের নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ কেঁদগাছ, যার পাতা দিয়ে তৈরি হয় ভারতীয় বিড়ি। যার সঙ্গে রয়েছে ভারতের মাটি ও মানুষের নিবিড় যোগ। বিড়ি কোন মেশিনে নয়, তৈরি হয় খোদ মানুষের হাতে। তাই আমার কাছে একজন খদ্দরধারীর চেয়ে, একজন বিড়িখোরই বেশি গান্ধীবাদী! আসলে, বিড়িতেই লুকিয়ে আছে ভারতের স্বনির্ভরতার মন্ত্র। বিড়ির টেকনোলজি এবং প্যাকিং, যাকে আমরা ‘বান্ডিল’ বলি, তা একান্তভাবেই ভারতীয় পরম্পরায় বিকশিত এক পরম আশ্চর্য টেকনোলজি!

দাদা গো, আমি বিড়ি খাই না, তবে বিড়ি বিষয়ে ভাষণ দিতে পারি। কোন কোম্পানি যদি যোগাযোগ করে, তাহলে আমি বিড়ির বিজ্ঞাপনও লিখে দিতে পারি। ভারতীয় বিড়ির উঠে দাঁড়ানোর, ঘুরে দাঁড়ানোর এবং দামী সিগারেটকে দুয়ো দেখিয়ে কষপ্রেমীদের ফুসফুস ও হৃদয়ে নিজের জায়গা তৈরি করে নেবার এটাই প্রকৃত সময়!

আবেগমথিত কণ্ঠে এই তাবৎ প্রস্তাবনা যখন এক সিগারেটখোর বন্ধুর কাছে রাখলাম, তৎক্ষণাৎ সে আমাকে সম্পূর্ণরূপে হতাশ করে বলল, ‘সে তো প্রত্যেকবারই সিগারেটের দাম বাড়ছে, ছাড়ছে কে! ইটস ওকে, দামী হলে দাম দিয়েই খাবো!’

দাদা গো, যে দেশে মদ-সিগারেটের দাম বাড়লেও মাতাল ও সিগারেটখোরদের বাড়বাড়ন্ত হয়, যে দেশে নেশা করে মরলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়, যে দেশের নেতাদের ডিগ্রি ভুয়ো, যে দেশে বেকারের সংখ্যা বাড়লেও বিপ্লব হয় না, যে দেশের চাষি-মজুরের কোটি কোটি টাকা বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থায় খাটে, সে টাকা খোয়া গেলেও যে দেশে দুর্ভিক্ষ হয় না, সে দেশকে ‘গরীবের দেশ’ বলে কোন শালা!

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *