নীল রায়
আবারও বনগাঁর ভোটের রণাঙ্গনে ঠাকুর পরিবারের দ্বৈরথ! মঙ্গলবার বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ১০ টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে। দেখা যায় বনগাঁ লোকসভা প্রার্থী হয়েছেন সদ্য প্রয়াত মতুয়াদের বড়মা বীণাপাণি দেবীর ছোট নাতি শান্তনু ঠাকুর। তৃণমূলের দখলে থাকা বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের ওপর গত কয়েক বছর ধরে বিজেপি-র নজর ছিল। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের লোকসভা উপনির্বাচনে জেঠিমা বনাম ভাইপোর যুদ্ধ দেখেছিল মতুয়া সমাজ। সেবার স্বামীর প্রয়াণের পর উপনির্বাচনে সুব্রত ঠাকুরের সঙ্গে লড়াই করে জিতেছিলেন মমতা ঠাকুর। এবার তাঁর প্রতিপক্ষ সুব্রতর ভাই শান্তনু। শান্তনু নিজেই যোগাযোগ করেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে। মমতাবালা ঠাকুরকে সাংসদ করে তৃণমূল যে ভাবে ঠাকুরবাড়ির রাজনৈতিক দখল নিয়েছিল তা নিয়ে বেজায় অসন্তুষ্ট ছিলেন শান্তনু ও তাঁর পিতা মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর। সম্প্রতি পিতাপুত্র জুটি ঠাকুরবাড়িতে আমন্ত্রণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। ঠাকুরনগরের মতুয়া বাড়িতে পা রেখে ভাষণ দেওয়ার সঙ্গে বড় মা বীণাপাণি দেবীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন মোদী । তবে নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় কৌশলে বিজেপি-র গেরুয়া পতাকা ছিল না। ছিল শুধু মতুয়া সম্প্রদায়ের বিজয় ধ্বজা। মোদীর সভায় ঠাকুরনগরে ভিড় ছিল চোখ টানার মতো। তারপর থেকেই মতুয়া ভোট নিয়ে দুশ্চিন্তায় তৃণমূল। ঘটনচক্রে, ৬ মার্চ মৃত্যু হয় বড়মা বীণাপাণি দেবীর। সেই থেকে মতুয়া উত্তরাধিকার নিয়েও গোলমাল শুরু হয়েছে ঠাকুরবাড়িতে। মমতাবালা ঠাকুরকে বীণাপাণি দেবীর উত্তরাধিকারী করতে মরিয়া তৃণমূল। কিন্তু ঠাকুরবাড়ির দখল ছাড়তে নারাজ শান্তনু ও মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর। বিজেপি নেতৃত্ব তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। যেমন, মমতা ঠাকুরকে পাশে টেনে যেমন তৃণমূল মতুয়া ভোটের দখল রাখলে চাইছে। তেমনই শান্তনু মঞ্জুলকে পাশে নিয়ে মতুয়া ভোটের গতিমুখ পরিবর্তন ঘটিয়ে গেরুয়া ভোটব্যাঙ্ক বাড়াতে চাইছে বিজেপি। বনগাঁ ছাড়াও, বসিরহাট, বারাসত, রানাঘাট, মালদহ দক্ষিণ ও উত্তর আসনে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রভাব রয়েছে। তাই মোদীর সভায় মতুয়া সমাগমের ফসল শান্তনু ঠাকুরের মাধ্যমে ঘরে তুলতে চান অমিত শাহ।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news