নীল রায়
তৃণমূলে “অ্যালার্জি” ছিলই, এবার সিপিএমও বাংলা কংগ্রেসের অপছন্দের তালিকায়। তাই কোনও পক্ষের সঙ্গে জোট নয়, এবার একা লড়াই করেই এআইসিসিকে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিতে চায় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। বুধবার দুপুরে পর্যবেক্ষক গৌরব গগৈ ও সোমেন মিত্রের সামনে নিজ নিজ দাবি পেশ করবেন জেলা কংগ্রেস সভাপতিরা। তৃণমূলের সঙ্গে জোটে বিস্তর আপত্তি রয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের। একই মত ছিল জেলা কমিটির সভাপতিদেরও। তাই বাংলা কংগ্রেসের একাংশ সিপিএমের সঙ্গে জোট বেঁধে তৃণমূলকে জব্দ করতে চেয়েছিলেন। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস-সিপিএম জোটের রসায়ন দানা না বাধলেও, লোকসভা ভোটের আগে ফের সেতুবন্ধনের উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। মাঝের তিন বছর বিভিন্ন উপনির্বাচনে পৃথক লড়াই করে ভোট ব্যাঙ্কের বিস্তর ক্ষতি হয়েছিল দু’পক্ষেরই। কিন্তু এবার বাম শরিক সহ সিপিএমের জোট-দাবি মনঃপুত হয়নি বিধান ভবনের। তাই রাজ্যের ৪২টি আসনে একক ভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত অন্তরে অন্তরে নিয়েই ফেলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব থেকে জেলা কংগ্রেসের সভাপতিরা। এবছর জানুয়ারি মাসের গোড়ার দিক থেকেই এআইসিসির নির্দেশে ৪২টি আসনে তিনজন করে প্রার্থীর নাম ঠিক করার কাজ শুরু করে দিয়েছিল সোমেন মিত্রের দলবল। আগ্রহী প্রার্থীরা বায়োডেটা জমা দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের কাছে। এসবের মধ্যে সিপিএমের সঙ্গে মৌখিক আলোচনা চলছিল। জাতীয় স্তরে রাহুল গাঁধী-গৌরব গগৈদের সঙ্গে সীতারাম ইয়েচুরির। বাংলায় সোমেন মিত্র-আব্দুল মান্নানদের সঙ্গে সূর্যকান্ত মিশ্র-রবীন দেব-দের। জোটজট যেন কিছুতেই কাটতে চাইছিল না। সোমবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের শরিকদের সঙ্গে সিপিএমের বৈঠকের দিকে নজর ছিল বিধান ভবনের। ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি, ও সিপিআই তো বটেই, বৈঠকে সিপিএমের অবস্থান জেনে খানিকটা অবাকই হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু জানিয়েছেন, আসন সমঝোতা হলেও, কংগ্রেসের প্রচার কর্মসূচী থেকে এক মঞ্চে যৌথ সমাবেশ, কোথাও অংশ নেবে না সিপিএম। এমন কথা কানে আসার পরই সিপিএমের সঙ্গে জোট ছেড়ে এককভাবে ভোটে লড়াই করার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই ফেলেছে বিধান ভবন। কিন্তু এ বিষয়ে এআইসিসির সম্মতি এখনও মেলেনি। বৈঠকে সেই বিষয়ে সম্মতি নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকে পুরুলিয়া লোকসভা আসনের জন্য নিজের দাবি পেশ করবেন বলে জানিয়েছেন বাঘমুন্ডির কংগ্রেস বিধায়ক নেপাল মাহাতো। দক্ষিণ কলকাতা আসনের জন্য দাবি রাখবেন প্রদীপ প্রসাদ। বসিরহাট লোকসভা আসনের জন্য বায়োডেটা জমা দিয়ে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা জাহির করেছেন রাজ্য যুব কংগ্রেস সভাপতি সাদাব খান। আর যে রায়গঞ্জ নিয়ে সিপিএমের সঙ্গে জোট ভেঙে যাওয়ার জোগাড়, সেই আসনের জন্য দীপা দাশমুন্সির হয় বৈঠকে সোচ্চার হবেন রায়গঞ্জের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত। যদিও বৈঠকে হাজির থাকবেন দীপা দাশমুন্সি। নিজের কথা উওর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসের মুখ দিয়ে বলাতে চান প্রিয়রঞ্জন জায়া। সেই পথেই মুর্শিদাবাদের ৩টি আসনের জন্য গলা ফাটাবেন সভাপতি আবু হেনা। প্রসঙ্গত, লালগোলার বর্তমান বিধায়ক আবু হেনাকেই মুর্শিদাবাদ লোকসভার জন্য প্রার্থী হিসেবে বেছে রেখেছেন অধীর চৌধুরী। এমনই সব যুক্তি দেখিয়ে এআইসিসির থেকে “একলা চলো”র ছাড়পত্র আদায় লক্ষ্যে বাংলার কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের যে সমস্ত নেতারা সিপিএমের সঙ্গে জোটে আগ্রহী ছিলেন, তাঁরাই এখন বেজায় ক্ষুব্ধ। সিপিএমের সঙ্গে জোটভঙ্গ প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের উক্তি, “রাজনীতিতে সব সময় দুই দুই চার হয় না। কখনও, কখনও দুই দুই শূন্যও হয়।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news