ভাস্কর মান্না:
ক্লাস রুমের মধ্যে রয়েছে ১৫টি বেঞ্চ। প্রতিটি বেঞ্চে বসেছে একজন করে পড়ুয়া। প্রত্যেকের মুখে রয়েছে মুখাবরণ (মাস্ক)। এভাবে পুনরায় আবার ক্লাস শুরু হল মহারাষ্ট্রের দুটি জেলার স্কুলে।
কোভিড-১৯ মহামারীর জেরে দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে স্কুল। প্রভূত ক্ষতি হচ্ছে পড়ুয়াদের। এই পরিস্থিতিতে নবম, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য পুনরায় আবার স্কুল চালু করতে উদ্যোগী হল মহারাষ্ট্র সরকার। যেসব এলাকায় গত এক মাসে কোনও করোনা রোগী নেই, সেইখানে জেলাশাসকদের পুনরায় স্কুল খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের একাধিক বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
৬ জুলাই থেকে মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর ও গড়ছিরলি জেলায় স্কুল খোলা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ নবম, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের দুটি ব্যাচে ভাগ করেছেন। প্রতিটি ব্যাচে ১৫ জন করে পড়ুয়াকে রাখা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং মেনে চলার জন্য ক্লাস রুমের মধ্যে প্রতিটি বেঞ্চে একজন করে পড়ুয়াকে বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবং প্রত্যেক পড়ুয়ার জন্য মুখাবরণ আবশ্যিক করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফ থেকে পড়ুয়াদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ” ৩ মাস ধরে ক্লাস না হওয়ায় পড়ুয়াদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। তাই আমরা স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিদিন ৩ ঘন্টা করে ক্লাস করা হবে। বিনা বিরতিতেই পরপর ৫টি ক্লাস হবে।” প্রথম দিন ৫০ শতাংশ এবং দ্বিতীয়দিন ৮৫ শতাংশ পড়ুয়া উপস্থিত হয়েছে বলে স্কুলের তরফে জানানো হয়েছে। তবে কোনও পড়ুয়ার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়নি। এমনকি কোনও কোনও স্কুল সংক্রমণ এড়িয়ে পড়ুয়াদের ১০০ শতাংশ হাজিরার লক্ষ্যে, গাছের তলায় খোলা জায়গায় ক্লাস করার ভাবনা চিন্তা করছে।
এই সমস্ত পদ্ধতি অবলম্বন করে চন্দ্রপুর জেলার ২৫০৭টি স্কুলের মধ্যে ৫০টি এবং গড়ছিরলি জেলার ১৪৯৭টি স্কুলের মধ্যে ১৭০টি স্কুল খোলা হয়েছে। এ ছাড়া ১৩ জুলাই থেকে বর্ধা জেলার আরও ৫০টি স্কুল খোলার কথা রয়েছে। একই এই পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে আরও স্কুল খোলার পরিকল্পনা করছে মহারাষ্ট্রের শিক্ষা দফতর। কিন্তু ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশের পরেও কিভাবে আরও স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার? এ প্রসঙ্গে শিক্ষা দফতরের যুক্তি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নির্দেশ দিলেও সংক্রমণ এড়ানোর সমস্ত পদ্ধতি মেনে স্কুল খোলা হচ্ছে। তাছাড়া আমরা এটা বাধ্যতামূলক করছি না। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের পরামর্শ নিয়েই স্কুল খোলা হয়েছে।
এই ব্যবস্থা অন্য রাজ্যও গ্রহণ করতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষা শিবিরের একাংশ। তবে এক শিক্ষাবিদের যুক্তি, অনেক রাজ্যে পড়ুয়া সংখ্যা অনেকটাই বেশি। ফলে সেখানে একটি বেঞ্চে একজন করে পড়ুয়া বসানো যাবে না। কিন্তু খোলা জায়গায় সমস্ত রকম সতর্কতা অবলম্বন করে ক্লাস করা যেতেই পারে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news