সঞ্জয় সরকার
তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায়ন কী একটি ছোট বৃত্তের মধ্যেই আটকে থাকছে!
এই ‘বেয়াড়া’ প্রশ্নটি উঠছে ববি হাকিমকে মেয়রের চেয়ারে বসানোর পর।এই ব্যাপারে তৃণমূল নেত্রী কী একেবারেই একচক্ষু! রাজ্য মন্ত্রীসভার দিকে তাকালে বা তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পদাধিকারীদের দিকে তাকালে অবশ্য এমনটাই মনে হবে।
প্রথমেই আসা যাক রাজ্য মন্ত্রীসভায়। সেখানে হাতে গোনাএক বা দু’জন বাদ দিলে প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী হয় অরুপ, নয় পার্থ, নয়তো ববি। অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দেওয়ার পর এখন অবশ্য শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও আছেন। এতদিন এই তালিকায় বেশ উপরের দিকেই ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। পদত্যাগ কাণ্ডের পর তিনি আপাতত সাইড লাইনে। দক্ষিণ কলকাতা বা বলা ভালো কালীঘাটের কাছাকাছি থাকা এই ভাইদের বাদ দিলে দিদির মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ দফতর পেয়েছেন শুভেন্দু, অমিত মিত্র, বালু মল্লিক ও গৌতম দেব। অমিত মিত্রের বিষয়টা অবশ্য আলাদা। মমতা তাঁকে শিল্প ও অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ মনে করেন। বালু ও গৌতম শুধু একটামাত্র দফতরের দায়িত্বে। শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য একাধিক দফতরের
দায়িত্বে। যদিও শুভেন্দুর সঙ্গে এই তালিকায় আরও যাঁরা রয়েছেন তাঁদের কারও তুলনা চলে কিনা সে প্রশ্ন দলের ঘরে বাইরে সর্বত্র আছে। বরং তৃণমূলে শুভেন্দুর প্রাপ্য আরও অনেক বেশি বলেই মনে করেন দলেরই একটা বড় অংশ।
তৃণমূল নেত্রীর এই কেন্দ্রিকতার আবার একটি কোর গ্রুপ আছে। এতদিন সেই গ্রুপে তিনজন ছিলেন। শোভন সরে যাওয়ায় গ্রুপে এখন রয়ে গেলেন ববি হাকিম ও অরুপ বিশ্বাস। এঁদের হাতেই রয়েছে পূর্ত থেকে পুর দফতর, রয়েছে ক্রীড়া থেকে যুব কল্যান দফতর, রয়েছে বিভিন্ন কমিটির দায়িত্বও। যখনই অ্যাডহক ভিত্তিতে কাউকে কোনও কিছুর দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, দিদির মুখে সর্বাগ্রে আসে এদের নাম। দলীয় স্তরেও এই দুই ভাইয়ের উপরেই দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকেন তৃণমূলনেত্রী। রাজ্যের সবচেয়ে বেশি জেলার অবজার্ভার হোক বা অন্য রাজ্যের অবজার্ভার, ববি অরুপ জুটি সবার আগে। যদিও ইদানিং সেই ভাগে ভাগ বসাচ্ছেন স্নেহের ভাইপো। তবে মুকুল রায় যতদিন তৃণমূলে ২ নম্বরে ছিলেন, ততদিন এই সব ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন তিনিই। মুকুল রায় দল ছাড়ার পর দিদি সম্ভবতঃ অরুপ, ববি, পার্থ বা বক্সি ছাড়া আর কাউকে সেইভাবে ভরসা করে উঠতে পারেন না। জেলা থেকে আসা মুকুলের দলের মধ্যে বাড়বাড়ন্ত নাকি অনেকেরই চক্ষুশুল ছিল। মুকুল যেতে ক্ষমতার রাশ এখন তাদেরই হাতে।
এবার সম্ভবত মমতার এই বলয় প্রীতি (তাঁকে ঘিরে থাকা নেতৃবৃন্দের প্রতি পক্ষপাতিত্ব) অত্যন্ত নগ্ন ভাবে প্রকট হয়ে পড়ল। রাজনৈতিক মহলের মতে অতীন ঘোষকে মেয়র করা যেত। তাঁকে স্বান্তনা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, ডেপুটি মেয়র। দেবাশিষ কুমারকে করা যেত। করা হয়নি, কারণ তিনি আবার একদা বিদ্রোহী। মমতাকে বাদ দিয়েই তিনি ঘড়ি চিহ্ন নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার বুকে জিতে দেখিয়ে দিয়ে ছিলেন অনেক বছর আগে। এই যোগ্য দাবীদারের তালিকায় আরও কয়েকজন আছেন। সুব্রত মুখোপাধ্যায় নিজে রাজি না থাকলেও তাঁর নাম যে কোনও কোনও মহলে আলোচিত হয়নি তা নয়।
এতজনকে বঞ্চিত করে, আইন বদল করে, শোভনের ছেড়ে যাওয়া মেয়র পদে ফিরহাদ হাকিমকে কেন? অন্য কেউ নয় কেন? কাউন্সিলরদের মধ্যে থেকে কোনও নাম বেছে নেওয়া হল না কেন? দলের কাউন্সিলরদেরই একটা বড় অংশ এই প্রশ্ন তুলছেন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news