দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় :
নীল রায় :
কয়েক দিন যাবৎ আমফানের চেয়েও শক্তিশালী একটি ঝড় বয়ে চলেছে এ রাজ্যের অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক পরিবারে।
বয়েসে বৃদ্ধ হলেও মনের জোরে এখনও তরুন গৃহকর্তা তিন জোয়ান পুত্রের পিতা। তিন পুত্র, তিন জনেই রাজনীতিতে স্থিতধী।
পরিবর্তনের লড়াইতে একটি বৃহৎ আন্দোলন কার্যতঃ নিজেরাই সংগঠিত করেছিল এই পরিবার। অর্থ, বুদ্ধি, শ্রম, সব কিছু উজাড় করে, এক অতি পরাক্রমী বাম নেতার মিথ কে মিথ্যে প্রমাণ করে, এঁরা রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলে নিজেদের ভিন্ন স্বাক্ষর রেখে ছিলেন।
মমতার পরিবর্তনের আন্দোলন রাজ্যে সরকার ছাড়া আর কোনও পরিবর্তন আনতে পেরেছে কি না তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু যা নিয়ে কারও কোনও সংশয় নেই, তা হল মমতার এই আন্দোলন রাজ্য রাজনীতি কে একটি নেতা উপহার দিয়েছিল। মাতঙ্গিনীর মাটি থেকে প্রকৃত পক্ষে মাটি থেকে উঠে আসা নেতা যাকে বলে, সেই ভাবে উঠে এসেছিলেন এই নেতা।
জীবনের সব ক্ষেত্রেই যোগ্যতা অনেক সময় বড় অযোগ্যতা হয়ে ওঠে। রাজনীতির ক্ষেত্রও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই যতটা প্রাপ্য, যে স্বীকৃতি যে সম্মান তাঁর পাওয়ার কথা ছিল, এই উন্নত-মস্তক নেতা তা পেলেন না। লড়াই, সংগ্রাম, রক্তক্ষরণ… জীবনের আশঙ্কা কে প্রতি মুহূর্তে জয় করার সাহস। বিপুল অংশের সমর্থন দলের হাতে তুলে দিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা, সবই গৌণ হয়ে যায় যখন রক্ত ঝরানোর উত্তরাধিকার রক্তের সম্পর্কের জন্য আগে থেকেই নির্দিষ্ট হয়ে থাকে।
সর্বক্ষণের রাজনীতি করে রাজনৈতিক কেরিয়ার নিয়ে মাথাব্যথা নেই, এমন কথা যাঁরা বলেন, হয় তাঁরা মিথ্যা বলেন নয় তাঁদের যোগ্যতা নেই। তাঁদের নিজের আলো নেই। তাঁরা তারকার আলোর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু যাঁরা নিজেই তারকা? তাঁরা কেন একটি পারিবারিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নিজের বলি দেবেন? চেয়ারের কথা যদি বাদ দেওয়াও যায়, তবু প্রশ্ন থেকে যায় যে নিজের রাজনৈতিক প্রতিভা কেন কেউ দেশের কাজে লাগাবে না?
ফিরে আসা যাক ঝড়ের কথায়।
‘যেমন আছি তেমন’ থেকে, নিজের প্রতি হওয়া অন্যায় হজম করে, রক্তের সম্পর্কের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে দর্শক হওয়া নাকি ‘পরিবর্তন-আন্দোলনের শহীদের’ রক্তের সম্মান রক্ষা করা? কোন টা করা উচিত? এই প্রশ্ন কে কেন্দ্র করেই সম্প্রতি পাক খেয়েছে ঝড় পিতা পুত্রের পরিবারে।
আমফান চলে গেছে, ফেলে গেছে ধ্বংসের লীলাময়ী করুণ ছবি। করোনার গ্রাসও কালের নিয়মে মিলিয়ে যাবে। কোনও কোনও বিশারদ আশা করছেন সেপ্টেম্বর অক্টোবরে হয়ত অবস্থা কিছুটা আয়ত্তে আসবে।
কিন্তু তারপর?
সূত্রের খবর তারপরই উঠবে গগনভেদী ঝড়। ভূমির তলায় পাথর সরে গেলে যেমন ভূমিকম্প হয়। নিজেকে দল থেকে সরিয়ে নিয়ে পাথর সরানোর কাজটি আগেই সেরে রেখে ছিলেন মুকুল রায়। এবার করোনা ও আমফান পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে উঠবে নাকি আর এক ঝড়? যে ঝড়ের শুরু ইতিমধ্যেই হয়েছে পিতা পুত্রের প্রাসাদে! সূত্রের খবর, রাজনীতির আবহাওয়াবিদদের অনুমান, সেই ঝড়ই শক্তি বাড়িয়ে সাইক্লোন হয়ে ছেয়ে ফেলবে শাসকদলের আকাশ।
কি সেই ঝড়ের নাম?
সেই ঝড়ের নামকরণের ভার আপাতত পাঠকদের ওপরেই ছাড়ছে রাজনৈতিক হাওয়া অফিস!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news