Breaking News
Home / TRENDING / আইপিএস গৌরব দত্তের আত্মহত্যায় সিবিআই তদন্তের দাবি মুকুলের

আইপিএস গৌরব দত্তের আত্মহত্যায় সিবিআই তদন্তের দাবি মুকুলের

নীল রায়

পুলিশ কর্তা গৌরব দত্তের আত্মহত্যার ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবি তুলল বিজেপি। বৃহস্পতিবার জোড়া টুইট করে এই দাবি তোলেন কেন্দ্রীয় বিজেপি সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয় ও বিজেপি নেতা মুকুল রায়। টুইট দুটি পৃথক হলেও তাদের বক্তব্য একই। কৈলাস লেখেন, “প্রয়াত আইপিএস গৌরব চন্দ্র দত্ত আত্মঘাতী হয়েছেন। তার সুইসাইড নোটে আত্মহত্যার জন্য দায়ী করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বৈরাচার ও অত্যাচারকে। এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার কাঠগড়ায়। এই মৃত্যুর ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি করছি।” কার্যত একই ভাষায় টুইট করেন মুকুলও। একদা তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড এই নেতা লেখেন, “একজন আইপিএস তার জীবন শেষ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। আমরা এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি করছি।” সিবিআই তদন্তের দাবি করেই থেমে থাকেননি মুকুল। রাজ্যের সমস্ত আইপিএস আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে প্রাক্তন রেলমন্ত্রী বার্তা, “ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সকল আইপিএস মুখ্যমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে সরব হোন।” প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার গৌরব দত্ত ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর চাকরি থেকে অবসর নেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সল্টলেকের বাড়িতে হাতের শিরা কাটা এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। যদিও, মৃত্যুর আগে একটি সুইসাইড নোট লিখে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ অনেক জায়গায় ইমেল করেন তিনি। সেই ইমেল নিয়েই এখন বিরোধী রাজনৈতিক দলের আক্রমণের মুখে তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহল জানাচ্ছে, মানবাধিকার কমিশনের ২৮ মে ২০০৯ সালের এক সুপারিশের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১০ সালের ২৪ মার্চ গৌরব দত্তর বিরুদ্ধে চার্জশিট ইস্যু করে। তারও আগে বিভাগীয় তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি গৌরব দত্তকে সাসপেন্ড করে। আর সেই বছরই ১০ অগাস্ট গৌরব দত্তকে কম্পালসারি ওয়েটিংয়ে পাঠিয়েছিল তৎকালীন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকার। ২০০৩-০৪ সাল থেকে বারবার নানা ধরনের অভিযোগ জমা পড়েছিল এই আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে। কিন্তু ২০০০-০১ সালে সিপিএমের কেশপুর-গড়বেতা লাইনকে প্রশাসনিকভাবে মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এই গৌরব দত্তের বিরুদ্ধেই। নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে জর্জরিত ছিলেন প্রাক্তন এই আইপিএস। যা তাঁর কর্মজীবনে বিতর্ক তৈরি করেছে বারবার। মৃত্যুর পরেও সেই বিতর্কই তার সঙ্গী হয়ে রইল।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *