নিজস্ব সংবাদদাতা, বোলপুর:
সিউড়ির ঘটনা সামনে আসতেই আর মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার সাহস দেখাল না বিজেপি কর্মীরা। সোমবার মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার কথা বলেও শেষ মুহুর্তে সিদ্ধান্ত বদল করল তাঁরা। শনিবার রাতেই তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল জানিয়ে দেন, তাঁরা কৌশল বদল করেছেন। এবার আর মহকুমা শাসকের অফিসের সামনে মশারি টাঙানো হবে না। কারণ গ্রামে গ্রামে ব্যাপক হারে কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে। তাই গ্রামে গ্রামে মশারি টাঙানো হবে। সোমবার হলোও তাই। বোলপুর মহকুমার ইলামবাজার, নানুর, লাভপুর, বোলপুর ইত্যাদি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশি কায়দায় নাকা চেকিং শুরু করে তৃণমূল কর্মীরা। কে কি কাজে যাচ্ছে তা জানা ছাড়াও প্রয়োজনে পথ চলতি মানুষের ব্যাগ খুলে তল্লাশিও চালানো হয়। তবে প্রকাশ্যে নয়। সন্দেহ হলেই আড়ালে নিয়ে গিয়ে এই তল্লাশি চালানো হয়। সব কিছু পেরিয়ে যেতে পারলেও বিডিও অফিসে গিয়ে থমকে যেতে হয়েছে বিরোধী প্রার্থীদের। কারণ সেখানে উন্নয়নের বেড়া টপকে ভেতরে যাওয়া কার্যত অসম্ভব। বিরোধী প্রার্থীদের ভয় দেখানোর কাজটা অবশ্য শুরু হয়েছিল রবিবার রাত থেকেই। ইলামবাজারের বিজেপি প্রার্থী গৌতম লোহারকে রাতে তুলে নিয়ে গিয়ে পরে অর্ধমৃত অবস্থায় জঙ্গলের রাস্তায় ফেলে দিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতা শিবদাস ঘোড়ুই বলেন, রাতে বাড়ি ফেরার পথে ধল্লা গ্রাম থেকে অপহরণ করা হয় তাঁকে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ নিয়ামত আলির গাড়িতে করে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তারা ফোন তোলেনি। পরে ইলামবাজার জঙ্গলে অর্ধমৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এই বিজেপি কর্মীকে প্রথমে ইলামবাজারে পরে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এই বিজেপি কর্মীকে হাসপাতালে পৌঁছে বাড়ি ফেরার পথে আক্রান্ত হন ইলামবাজারের আর এক বিজেপি নেতা দীপঙ্কর রূজ। সোমবার সিউড়ি থেকে বিজেপি নেতা দিলদার শেখের মৃত্যুর খবর আসতেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বিরোধী প্রার্থীরা। জানা গেছে এদিন লাভপুরের লাঘাটা, নতুন বাসষ্ট্যান্ড, গোপালপুর ইত্যাদি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কর্মীদের জমায়েত করে রাখে তৃণমূল। ফলে বিরোধীরা মনোনয়ন জমা না দেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ দখল করল শাসক দল। একই ছবি দেখা গিয়েছে বোলপুর, ও নানুর এলাকাতেও। শাসক দলের দাপটে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বিরোধীরা। জেলার বিজেপি সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, আমাদের কর্মীদের খুন করার পরিকল্পনা করেছিল তৃণমূল। তাই আমরা মনোনয়ন জমা দিতে যাই নি। কর্মীদের তো আর মৃত্যুর পথে ঠেলে দিতে পারি না। তবে জেলা নেতৃত্ব কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তার দিকেই এখন বিজেপির স্থানীয় নেতারা তাকিয়ে আছে বলে জানান দিলীপবাবু। অন্যদিকে এই ঘটনায় বিজেপির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেন,সব মিথ্যা অপপ্রচার।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news