Breaking News
Home / TRENDING / তৃণমূল : একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উল্টোসুর সিনিয়র বিধায়কদের গলায়

তৃণমূল : একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উল্টোসুর সিনিয়র বিধায়কদের গলায়

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।

একে একে নিভিছে দেউটি !

একুশের বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই তৃণমূল (TMC) বিধায়করা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দল থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে জানিয়ে দিচ্ছেন।

সম্প্রতি ব্যারাকপুরে তৃণমূল বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত ও কোচবিহার দক্ষিণের (Coochbihar South) তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী (Mihir Goswami) ঘোষণা করে দিয়েছেন তাঁরা আর দলের হয়ে নির্বাচনে দাঁড়াবেন না।

ঘটনাচক্রে শীলভদ্র ও মিহির উভয়ই দলের দুর্দিনের সঙ্গী ছিলেন। মিহির গোস্বামী তো ৯০-এর দশক থেকেই কংগ্রেস রাজনীতিতে ‘মমতার লোক’ বলে পরিচিত ছিলেন। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরির সময় থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত হন। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলার রাজনীতিতে তৃণমূল সুপ্রিমোর অন্যতম আস্থাভাজন ছিলেন মিহির গোস্বামী।

একই সঙ্গে শীলভদ্র দত্ত উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন বাম জমানায়। এ হেন দুই বর্ষীয়ান বিধায়কের অভিমানী হয়ে দলের নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। কারণ, এক সময় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) খুব কাছের মানুষ ছিলেন মিহির ঘোষ ও শীলভদ্র দত্ত উভয়ই।

শনিবার প্রেস বিবৃতি জারি করে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন মিহির গোস্বামী। বিবৃতিতে কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক লিখেছেন, ‘‘আমার ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবন। শেষবেলায় এসে অনেক অপমান সহ্য করেছি। আর নয়। এবার দলের সাংগঠনিক সমস্ত দায়িত্ব থেকে আমি সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘দলীয় অনুশাসন অনুযায়ী সাংগঠনিক বিষয়ে বিধায়কদের প্রস্তাব মেনে নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। কেবল ব্লক কমিটি নয়, জেলা কমিটি নিয়েও বিধায়কদের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা করা হয়নি। গত ১৮ তারিখ দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে আমার প্রস্তাব জানিয়ে দিয়ে এসেছি। কিন্তু তাতে যে কোনও ফল হয়নি তা খুবই স্পষ্ট। আমার মনে হচ্ছে দলে এখন আর আমার মতো মানুষ একেবারেই উপযুক্ত নয়। তাই সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে আমি অব্যাহতি নিলাম।’’

লিখিত বিবৃতির শেষের দিকে মিহির গোস্বামী লিখেছেন, ‘‘এখন যাঁরা দলবিরোধী কাজ করছে তাঁরাই দলের নানা পদ অলঙ্কৃত করছেন। যে নীতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এতদিন দলনেত্রীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথ চলেছি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন আর তা দলে নেই। স্বজনপোষণ ও গোষ্ঠী রাজনীতির চূড়ান্ত জায়গায় পৌঁছে যাওয়ার পর এখন এই দল থেকে আর আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।’’

আর ব্যারাকপুরের (Barrackpur) তৃণমূল বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত (Shilbhadra Dutta) সম্প্রতি এক দলীয় অনুষ্ঠানে বলেছেন, “একুশের ভোটে ব্যারাকপুরে নতুন প্রার্থী আসবে। কাজ করবে। দশ বছর আমি আপনাদের সঙ্গ থেকেছি। যেটুকু করতে পারিনি তা আমার অপদার্থতা।” 

কিছুদিন আগে ফেসবুকে তিনি লিখেছিলেন, “আমি ভালো নেই। দমবন্ধ হয়ে আসছে।” তাঁর এমন ফেসবুক পোস্টেরর জেরে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় পরে জানিয়েছিলেন, এর পিছনে কারণ কোভিড সংক্রমন। তবে পুজোর বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এসে যেভাবে নিজেই বলে বসলেন, ব্যারাকপুরে নতুন প্রার্থী দাঁড়াবে এবং বেশ কিছু কাজ নিজের অপদার্থতার জন্য করতে পারেননি, সেটা অবাক করছে সবাইকে। 

প্রসঙ্গত, তৃণমূল রাজনীতিতে শীলভদ্র দত্ত ছিলেন মুকুল রায়ের (Mukul Roy) অনুগামী। ২০১৫ সালে যখন মুকুল রায়ের সঙ্গে প্রথম দফায় দলের দূরত্ব তৈরি হয় সেই সময় শীলভদ্র দত্ত ও শিউলি সাহা ছিলেন তাঁর সঙ্গে। সেই সময় থেকে সাময়িকভাবে শীলভদ্র-শিউলিকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মুকুল রায় আবারও তৃণমূলে রয়ে গেলে দুই বিধায়কের সাসপেনশন তুলে নেয় দল। ফের ব্যারাকপুরে প্রার্থী করা হয় শীলভদ্র দত্তকে। ২০১৬ সালে ব্যারাকপুর থেকে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য বিধায়ক হন তিনি। কিন্তু গত লোকসভা ভোটের পর থেকেই দলের একাংশ তাঁকে ব্যারাকপুর বিধানসভা এলাকার সাংগঠনিক কাজ থেকে একপ্রকার বাদ দিয়ে দিয়েছেন বলে ঘনিষ্ঠ মহলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শীলভদ্র।

ধারাবাহিক ঘটনার জেরে এবার নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে শীলভদ্র দত্ত বিজেপির (BJP) সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়ের হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট করেননি।

মিহির গোস্বামী কিংবা শীলভদ্র দত্তই নয়, সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) তৃণমূল বিধায়ক দীপক হালদারের (Dipak Halder) ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই জেলার তৃণমূল যুব নেতৃত্বের সঙ্গে বিবাদ চরমে উঠেছে দীপক হালদারের, এমনটাই সূত্রের খবর। সাংগঠনিক কাজকর্ম থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বৈঠকেও ডাক পাচ্ছেন না ডায়মন্ড হারবারের এই তৃণমূল বিধায়ক। সম্প্রতি নিজের ফেসবুকের দেওয়ালে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা কি ভুলে গেলেন, ডায়মন্ড হারবারের শাসকদলের নির্বাচিত বিধায়ক আছেন? কোনও সমস্যা নেই‌। চালিয়ে যান । তবে মনে রাখবেন এটা উচিত নয়।”

একদা সাংবাদিক ও অধুনা শাসকদলের বিধায়ক প্রবীর ঘোষালও সম্প্রতি বেসুরো বেজেছেন। সাংবাদিক বৈঠক ডেকে প্রকাশ্যেই বলেছেন দলের গোষ্ঠীদ্বন্দের কথা। বলেছেন, এমন কিছু মুখ এখন দলে উঠে এসেছে যে মুখগুলি দলের পুরনো ভাবমূর্তির সঙ্গে মানানসই নয়। একুশের আগে একের পর এক শাসকদলের বিধায়কদের বিদ্রোহ রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। কোথাকার জল কোথায় গড়ায়, আপাতত সেদিকেই নজর রাখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *