সূর্য সরকার।
পূজো মণ্ডপে ‘জাগো বাংলা’র স্টল, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) লেখা বই, সেসব নিয়ে এখন অনীহা তৃণমূলের বিধায়কদের মধ্যেই! অবাক শোনালেও ঘটনাপ্রবাহ সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। খোলসা করেই বলা ভালো। প্রতি বছর সারা বাংলাজুড়েই বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে তৃণমূলের তরফে ‘জাগো বাংলা’র স্টল খোলা হয়। সেখানে মুখপত্র ছাড়াও তৃণমূল সুপ্রিমোর লেখা নানা বই বিক্রি করার ব্যবস্থা থাকে। এ বছরেও তার অন্যথা হচ্ছে না। সূত্রের খবর, এই বছর এই নিয়ে বিধায়কদের অবগত করার দায়িত্ব পড়েছে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের (Jyotipriyo Mullick) ওপর। তাঁর তরফে সব বিধায়কদের জন্য একটি খাম বিলি হচ্ছে বিধানসভার মুখ্য সচেতকের ঘর থেকে। সেখানে দলীয় তরফে সাদা কাগজে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের স্বাক্ষরিত একটা চিঠি এবং একটা লিফলেট দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা ৮৮টি বইয়ের নাম। বলা হচ্ছে, এই বছর প্রতি বিধায়কদের এলাকায় বিভিন্ন পুজোতে জাগো বাংলার ষ্টল হবে , সেখানে রাখতে হবে দলের তরফে বলে দেওয়া এই ৮৮ টি বই।
কিন্তু গন্ডগোল দেখা দিয়েছে অন্য জায়গায়। এখনও পর্যন্ত সেই খাম সব বিধায়ক পর্যন্ত পৌঁছায়নি। সব মন্ত্রীদের কাছে খাম দূত মারফত পৌঁছে দিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয়। বাকি বিধায়কদের বিধানসভা থেকে বিলি করা হচ্ছে। কিন্তু অর্ধেকের থেকে বেশি এখনও পড়েই রয়েছে। পুজোর আর মাত্র ১২-১৪ দিন বাকি। তার মধ্যে এখনও দলীয় ‘নির্দেশনামা’ পৌঁছায়নি বিধায়কদের হতে। সূত্রের খবর, বার বার ফোনে বলে দেওয়া সত্বেও অনেক বিধায়ক নিয়ে যায় নি সেই ‘খাম’।তাহলে কি পূজামণ্ডপে দলীয় স্টল নিয়ে আগ্রহ নেই তৃণমূল (TMC) বিধায়কদের মধ্যে ? খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক অবশ্য এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন। বলেছেন, ” জাগো বাংলার ষ্টল প্রতি বছর পুজোয় বিভিন্ন মণ্ডপে দেওয়া হয়। চিঠি দিয়ে জানানো নতুন কিছু নয়। যাঁরা সময় পেয়েছেন নিয়ে গিয়েছেন। যাঁরা আসতে পারেন নি তাঁরাও নিশ্চই পরে এসে নিয়ে যাবে।” তবে, কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে আসা মুর্শিদাবাদ এবং মালদার ৪ জন সংখ্যালঘু বিধায়ক অবশ্য এই ‘খাম’ সংগ্রহ করেছেন তাদের এলাকায় জাগো বাংলার ষ্টল দেবেন বলে ! তৃণমূল বিধায়কদের অনীহা থাকলে দলবদলুদের আগ্রহ তৃণমূলের কাছে অবশ্য আশাব্যাঞ্জক।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news