ঈষাণিকা ভোরাই
রাজ্য সরকারের উন্নয়নের স্লোগানে স্লোগানে ভরে গেছে কালিম্পং থেকে কাকদ্বীপ। উন্নয়নের যজ্ঞ, কর্মযজ্ঞ ইত্যাদি ভারী ভারী শব্দে মুখরিত হচ্ছে শাসক দলের যে কোনও ছোট বড় সভা। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী নিজেও বলছেন ৯৯ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে। তবে নবান্ন থেকে বেরিয়ে আসা খবরে এইসব দাবির কতটুকু সমর্থন মিলছে?
২০১৭-র শেষ প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, যে যে দফতর টাকা খরচ করতে পারছে না, তারা টাকা ফেলে না রেখে রাজ্য কোষাগারে তা ফিরিয়ে দিক। তাহলে সেই টাকায় পড়ে থাকা উন্নয়নের কাজ করা যাবে। মূলত পঞ্চায়েত ভোটের আগে বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কাজে যাতে টাকার কোনও সমস্যা না হয় সেইজন্যই এমন নির্দেশ দিয়েছলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইমত ডিসেম্বর মাস থেকে টাকা ফেরানোর কাজ শুরু করে বিভিন্ন দফতর। অর্থদফতর সূত্রে খবর, বিভিন্ন দফতর থেকে এখনও পর্যন্ত ফেরত আসা টাকার পরিমাণ প্রায় ২৫০০ কোটি। এতদিন এই বিপুল পরিমাণে টাকা পড়ে ছিল বিভিন্ন দফতরের অ্যাকাউন্টে। প্রসঙ্গত, প্রতিবছর রাজ্য বাজেটে বিভিন্ন দফতরের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়, দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রেই সেই টাকা তারা খরচ করতে পারে না। উল্টোদিকে পঞ্চায়েত, পূর্ত সহ বেশ কিছু দফতর আছে যারা বরাদ্দ অর্থের পুরোটা খরচ করার পরেও তাদের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয়। এই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী অব্যবহৃত অর্থ ফেরতের নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে যে সব দফতরের প্রয়োজন আছে তারা সেই অর্থে উন্নমূলক কাজে ব্যবহার করতে পারে। নবান্ন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত যে টাকা জমা পড়েছে সেই টাকা চাহিদা অনুযায়ী পঞ্চায়েত, পূর্ত, সেচ সহ বেশ কয়েকটি দফতরকে দেওয়া হবে যাতে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তারা বাকি কাজ তাড়াতাড়ি সেরে ফেলতে পারে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের পঞ্চায়েত, অরুপ বিশ্বাসের পূর্ত এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেচ দফতর মুখ্যমন্ত্রীর কর্মযজ্ঞের দাবিকে সার্থক করতে সবচেয়ে বেশি তৎপর। অন্তত নবান্নের হিসেব তাই বলছে।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news