চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
তৃণমূল বনাম শুভেন্দু বিবাদে মধ্যস্থতায় নামলেন পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর কাঁথির বাড়িতে গেলেন বিহারী এই ভোটগুরু। প্রায় তিন ঘন্টা ধরে চলে বৈঠক। যদিও কাঁথির বাড়িতে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি শুভেন্দুর। সূত্রের খবর কথা হয়েছে কাছে তৃণমূল সাংসদ তথা শুভেন্দুর পিতা শিশির অধিকারী (Shishir Adhikari) সঙ্গে। বৈঠক প্রসঙ্গে অবশ্য দু’পক্ষই মুখ খোলেনি। বৈঠক শেষ করে প্রশান্ত কিশোর বেরিয়ে যাওয়ার পরেই, রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তাহলে কি শুভেন্দুর সঙ্গে তৈরি হওয়া তৃণমূলের মধ্যে দূরত্ব মিটে যেতে চলেছে ? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলা রাজনৈতিক মহলে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সাংসদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বিবাদের জেরে দল ও সরকার থেকে নিজেকে কয়েক যোজন দূরে সরিয়ে রেখেছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
বৃহস্পতিবার দিনভর হুগলি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে হয় বিজয়া সম্মেলনী, নয় কালী পুজোর উদ্বোধন করে বেড়িয়েছেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী। চলতি বছর ২৩ জুলাই তৃণমূলের নবগঠিত কমিটি ঘোষণার পর থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেন নন্দীগ্রাম বিধায়ক। সেই দূরত্ব চরম আকার নিয়েছে গত ১০ নভেম্বর নন্দীগ্রামের তেখালি হাই স্কুলের মাঠের সভায়। নাম না করে শুভেন্দু তোপ দেগেছেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে। সঙ্গে তার গলায় শোনা গিয়েছিল, ‘ভারত মাতার জয়’ স্লোগান। নৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল, তাহলে কি তৃণমূলের পাঠ চুকিয়ে বিজেপিতে (BJP) যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী ?
সেই সভার ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই পদক্ষেপ নিলেন প্রশান্ত কিশোর। ২০২১ তৃণমূলের ভোট বৈতরণী পার করতে প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর দলবল দিনরাত পরিশ্রম করছেন পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে। কিন্তু সেই পরিশ্রম কতটা কার্যকর হবে তা সময়ই বলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কিন্তু ভোটের আগে শুভ্যেন্দুর মতো দক্ষ ও জনপ্রিয় রাজনীতিক যদি শিবির বদল করেন তাহলে তৃণমূল (TMC) নেত্রীর পক্ষে নবান্নের মসনদে প্রত্যাবর্তন কঠিন হয়ে যাবে। সেই কথা বুঝেই, শুভেন্দু অধিকারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে দলে ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছেন তৃণমূলের পরামর্শদাতা পিকে স্যার। বৈঠক শেষে সাংসদ শিশির অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।
গত লোকসভা ভোটে তৃণমূলের চরম পরাজয়ের পর ভাইপোর কথামতো পরামর্শদাতা হিসেবে প্রশান্ত কিশোরকে নিয়োগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৯ জুলাই কলকাতা নজরুল মঞ্চ থেকে পথ চলা শুরু হয় তৃণমূল ও প্রশান্ত কিশোরের। ওইদিন তৃণমূল বিধায়কদের জন্য ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন পিকে স্যার। এরপর চলতি বছর মার্চ মাসে ‘বাংলার গর্ব মমতা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম থেকে। কিন্তু এই দুটি কর্মসূচির কোনোটিতেই দেখা যায়নি শুভেন্দু অধিকারীকে। গত দেড় বছরের সময়কালে প্রশান্ত কিশোরের কোনও কর্মসূচি বা নির্দেশ মানেনি তিনি। এমতাবস্থায় শুভেন্দু অধিকারী পিকে স্যারের কথা কতদূর মেনে নেবেন ? সে বিষয়ে বড়োসড়ো প্রশ্নচিহ্ন থাকছে বলেই মনে করছে বাংলার রাজনৈতিক মহল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news