পার্থসারথি পাণ্ডা :
কেউ তাঁকে ‘কিশোর কবি’ কবি বলুক, এটা একেবারেই পছন্দ করতেন না সুকান্ত ভট্টাচার্য। কবি কবিই, তার আবার কিশোর বৃদ্ধ বলে কিছু আছে নাকি! কবিতাটা ছিল তাঁর মজ্জাগত। যাকে বলা হয় কবিপ্রতিভা, সেটা তাঁর প্রবলভাবেই ছিল আশৈশব। বয়সে বড়, তুতো-দাদা মনোজ ভট্টাচার্যর উৎসাহে তা আরো বিকশিত হবার সুযোগ পেয়েছিল। ক্লাস এইটে পড়তে পড়তেই তাঁর কবিতার খাতা অসংখ্য কবিতায় ভরতি হয়ে গিয়েছিল। সেই খাতা হাত ফেরতা হয়ে ঘুরতে লাগল তখনকার সম্ভাবনাময় লেখক কবিদের কাছে। সেইসব কবিতা পড়ে সকলেই চমকিত হচ্ছেন, কবির ছন্দে, চিত্রকল্পে, ভাষায় অসাধারণ দখল দেখে। পরিণত মনের ছাপ দেখে। অনেকে বিশ্বাস করতেই যেন পারছিলেন না, ক্লাস এইটের তের চোদ্দ বছরের একটি ছেলের লেখায় এতটা পরিণত মনের ছাপ থাকতে পারে! সন্দেহ হল কবিতা গুলো সত্যিই সুকান্তর লেখা কিনা!
মাত্র একুশ বছর বয়সে যক্ষ্মায় মারা গিয়েছিলেন কবি। তখন এ রোগের তেমন কোন চিকিৎসা ছিল না। রোগটা অভাবী দরিদ্র না খেতে পাওয়া মানুষের অপুষ্টির রোগ। সুকান্ত কিন্তু গরীব ঘরের ছেলে ছিলেন না। না খেতে পাওয়ার মতো অবস্থা তাঁদের ছিল না। বাবা যজমানি করতেন, বইয়ের দোকান ছিল। কিন্তু সুকান্ত খুব ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছিলেন। ঘরে স্বচ্ছলতা থাকলেও সংসারটাকে গুছিয়ে চালানোর মতো কোন লোক ছিল না। তাই খাওয়া দাওয়ার ঠিক থাকত না, কমিউনিস্ট আন্দোলনের জন্য মিটিং মিছিলে সারাটা দিন কাটত। বাড়ি ফেরার ঠিক থাকত না। এদিকে রাত দশটার পর বাড়িতে ঢোকার আইন ছিল না। বাবার আইন। তাই রাত হলে আশ্রয় জুটত বন্ধু অরুণাচলের বাড়িতে। লাজুক সুকান্ত সারাদিন খাওয়া না হলেও চেয়ে খেতে শেখেননি। উদাসীনও ছিলেন বড়। শুধু অরুণাচলের মার কাছ থেকে শেষের দিকে পেয়েছিলেন মায়ের ভালোবাসা, স্নেহ আর খানিক যত্নআত্তি। তখন রোগ ধরেছে দেহে, শোনার ক্ষমতা কমে গেছে। তারপর…আর বেশিদিন রোগ ভোগ করতে হয়নি তাঁকে, কারণ, একুশ বছর বয়স হতে তাঁর হাতে আর বেশি সময় ছিল না…
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news