নীল রায়।
নজিরবিহীন ঘটনা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে! আলো নিভিয়ে আন্দোলনরত পার্শ্ব শিক্ষক-শিক্ষিকদের ব্যাপক লাঠিচার্জ করল পুলিশ বাহিনী। শনিবার সন্ধ্যায় কল্যানী স্টেশনের পাশে অবস্থানরত পার্শ্ব শিক্ষকদের উপর বিনা প্ররোচনায় বেপরোয়া লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের পার্শ্ব শিক্ষকদের অভিযোগ, সন্ধের পর আলো নিভিয়ে আচমকা লাঠি চালাতে শুরু করে পুলিশ। শিক্ষিকাদের ওপর পুরুষ পুলিশ বাহিনী লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। অভিযোগ, অন্ধকারে পেটানোর সময়েই একাধিক দিদিমণির জামা কাপড় ছিঁড়ে দিয়েছে পুরুষ পুলিশেরা। প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে সিঙ্গুরের বিডিও অফিসে আলো নিভিয়ে আন্দোলনরত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর বামফ্রন্ট সরকারের পুলিশ লাঠিচার্জ করেছিল বলে অভিযোগ করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল তৃণমূল। রাজনৈতিক মহল এদিন সেই ঘটনার কথাই স্মরণ করছে। সেই সময় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ ছিল আলো নিভিয়ে একজন মহিলা নেত্রীর ওপর কিভাবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পুলিশ লাঠি চার্জ করল। এদিন সেই একই কান্ড ঘটাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পুলিশ বাহিনী।
গত শুক্রবার সমকাজে সমবেতন-সহ আট দফা দাবি নিয়ে উল্টোডাঙা হাডকো মোড়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পার্শ্ব শিক্ষকদের জমায়েতে হয়েছিল। যান চলাচলে প্রভাব পড়ে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটান বাইপাসেও। ওইদিন পার্শ্ব শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের নেতারা জানিয়েছিলেন, “শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন তাঁরা। জানবেন দাবি।” কিন্তু তাঁদের মিছিল বিকাশ ভবন পৌঁছনোর আগেই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিকাশ ভবন ছেড়ে বেরিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআইয়ের জেরায় হাজিরা দিতে যান। প্রবল বৃষ্টি আর পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর পার্শ্ব শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নেন, তাঁরা বিকাশ ভবনের কাছেই অবস্থান করবেন। কিন্তু পুলিশ বসার অনুমতি দেয়নি। এরপর ধর্মতলায় অবস্থানে বসার কথা ভাবলেও রাজি হয়নি পুলিশ। এরপর কলকাতা থেকে কিছুটা দূরে কল্যাণী বাস টার্মিনালে বসার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। সিদ্ধান্ত হয়, সোমবার ফের জমায়েত করে বিকাশ ভবন যাবেন তাঁরা। কিন্তু তার মধ্যেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর পুলিশি হামলা হল।
পার্শ্ব শিক্ষকদের ওপর পুলিশি আক্রমণের বিরুদ্ধে লিখিত বিবৃতি জারি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি সোমেন মিত্র। তিনি লিখিত বার্তায় বলেন, “এ কোন রাজ্যে বাস করছি আমরা! সমাজ গড়ার কারিগর যে শিক্ষক – শিক্ষিকা,যাঁদের সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া আমাদের দায়বদ্ধতা সেই শিক্ষক সমাজের উপর এ রাজ্যে রাতের অন্ধকারে নেমে আসে রাষ্ট্রশক্তির ঘৃণ্য আক্রমণ! যেভাবে পার্শ্ব শিক্ষকদের রাজ্য সরকারের প্রশাসন দ্বারা পুলিশ দিয়ে পেটানো হলো, তা যেকোনো সভ্য সমাজের কাছেই এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি।” ফেসবুক লাইভে এসে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর এমন আক্রমণের প্রতিবাদ করেন প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা। এই অধ্যাপক রাজনীতিক অভিযোগ করেন, “বামফ্রন্ট জামানায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে পার্শ্ব শিক্ষকদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি ক্ষমতায় এলে সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু সমস্যার সমাধান তো দূর, ক্ষমতায় আসা ৮ বছর পর শিক্ষক শিক্ষকদের সমস্যার সমাধান না করে এখন তাদের ওপর পুলিশি আক্রমণের ঘটনা ঘটাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।” ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি। সংগঠনের নেতা স্বপন মন্ডল জানিয়েছেন, “শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর এমন আক্রমণের বিরুদ্ধে সরকারকে আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি। আমরা বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনগুলি সম্মিলিত ভাবে আলোচনা করে এমন নিন্দনীয় ঘটনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেব।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news