Breaking News
Home / TRENDING / অসভ্য কোলাহলের প্রতিবাদে কথা বলে উঠুক সভ্য মানুষের কণ্ঠস্বর

অসভ্য কোলাহলের প্রতিবাদে কথা বলে উঠুক সভ্য মানুষের কণ্ঠস্বর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় :

জোর যার মুলুক তার কিংবা যো জিতা ওহি সিকন্দর।
পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন পর্ব এক প্রকার শেষ হল। শাসক দল বুঝিয়ে দিয়েছে আর কিছু না হোক পেশী শক্তিতে তারাই এগিয়ে। তাদের এই বুঝিয়ে দেওয়ার মধ্যে বৃহত্তর কোনও পরাজয় লুকিয়ে আছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন। তবে এ হেন ‘বৃহত্তর’ কোনও বিষয়ে শাসক দলের তেমন কোনও আগ্রহ আছে কিনা তা বোঝার কোনও উপায় এই মুহূর্তে নেই। আত্মসমালোচনার চেয়ে দোষারোপের সহজ রাস্তায় হেঁটেছেন তাঁরা। ঝাড়খণ্ড থেকে লোক এনে বিরোধীরা হিংসা ছড়িয়েছে, এই প্রচারের আড়ালে নিজেরা মুখ ঢাকার চেষ্টা করেছেন। যদিও সংবাদমাধ্যমের শাকে ঢাকা থাকেনি মাছ! বেরিয়ে এসেছে পুলিশ ও দলীয় কর্মীর মধ্যে লাঠি বদলের আঁশটে ছবি! কয়েকজন তৃণমূল কর্মী কয়েকজন মহিলাকে রাস্তায় ফেলে মারছেন। এমন ছবিও বাংলা দেখল। যে বাংলা দেশ-বিদেশের বিবিধ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে অভ্যস্ত, যে বাংলার বুদ্ধিজীবীরা চৈত্র অবসানে পথে নামেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে, সেই বাংলা, সেই বুদ্ধিজীবীরা একটি কথাও বললেন না এই নারকীয় ঘটনার বিরুদ্ধে। কয়েকজন মহিলার চুলের মুঠি ধরে শাসক দলের (শাসকদলই বলছি। কারণ শাসকদল এই খবরের পর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রতিবাদ করেননি, বা দাবি করেননি যে তারা তৃণমূলের কেউ নয়) কয়েকজন বীরপুঙ্গব তাদের চড় ঘুষি মারছেন, এই ছবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিবিধ শ্রী- গৌরব কতটা বাড়িয়েছে তা তিনিই বলতে পারবেন। তৃণমূলের এই ধরণের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের মধ্যে ভবিষ্যতের কোনও বড় ও গভীর পরাজয় নিহিত আছে কিনা তা তৃণমূলের বড়-মেজ নেতা ভাল বুঝবেন। তবে তাঁরা সম্ভবত বর্তমানেই বাঁচতে বেশি ভালবাসেন। তাৎক্ষনিক জয় তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে শঙ্কার জায়গাটা আরও বৃহৎ। শঙ্কা হল এই যে সাধারণ মানুষ এই শক্তি প্রদর্শনকেই দস্তুর মনে করছেন। গণতন্ত্রের পুজোর যজ্ঞ যাঁরা নোংরা করছেন তাঁরা এক শ্রেনীর মানুষের কাছে (এই সংখ্যাটা নেহাত কম নয়) নায়ক হয়ে উঠছেন। মানুষ কী বিশ্বাস করতে শুরু করেছে পেশীশক্তিই শেষ কথা! ভোলা ময়রার একটি গানের কলি এক্ষেত্রে মনে পড়ছে ,’ও বেটা পুজোর বাড়ি ভুজোর লোভে নাচতে নেমেছে।’ এই ভুজোলোভীদের নৃত্য সচেতন মানুষকে আতঙ্কিত করছে। এই ভুজোলোভীরা জানেন পুজোর প্রসাদ ভাগ করে খেতে হয়। এবং গণতন্ত্রের পুজোর প্রসাদের ভাগ অনুগামীদের দিয়ে এক শ্রেনীর মানুষ নেতা হচ্ছেন। পেশী দেখে হাততালি দেওয়া মানুষের সমর্থন পেতে আর এক পক্ষও যদি বাই-শেপ দেখাতে শুরু করে (স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রতিরোধের কথা বলছি না ) আর মানুষ যদি ডুয়েল দেখে খুশি হয়, তাহলে সমাজের ধারনাই বিপন্ন হয়।
স্বামী বিবেকানন্দের একটি বহু কথিত উক্তি, মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ। চারিদিকে অসভ্যতার কোলাহলের মধ্যে সভ্যতার ক্ষীণ কন্ঠস্বরটুকুই এখন ভরসা।
নববর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই প্রার্থনা, কোলাহলের প্রতিবাদে কথা বলে উঠুক মানুষের কণ্ঠস্বর। গণতন্ত্রে হোক সভ্যতার সাধনা।

বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

https://www.youtube.com/channelhindustan

https://www.facebook.com/channelhindustan

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *