চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
আল-কায়েদার (Al-Qaida) যোগ রয়েছে মালদা জেলাতেও। ধৃত আল-কায়েদা জঙ্গীদের জেরা করে এমনই বিস্ফোরক তথ্য পেয়েছে এনআইএ। শুক্রবার ভোররাতে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি রানীনগর থেকে মোট ছয় জন আল-কায়েদা জঙ্গি গ্রেফতার করা হয়। ওই একই দিনে একই সময়ে কেরলের এর্নাকুলাম থেকে আরও তিনজন গ্রেপ্তার হন। জানা যায়, কেরল থেকে ধৃত তিনজনও মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। এনআইএ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, কাজকর্ম পরিচালনার জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিল এই জঙ্গিরা। মোট ২২ জন জঙ্গিকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। ওই ২২ জনের মধ্যে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ১৩ জন এখনো ধরা পড়েনি। সূত্রের খবর, ওই ১৩ জন পশ্চিমবঙ্গের মালদহের বাসিন্দা।
আল কায়দার সঙ্গে যুক্ত মালদহের ওই বাসিন্দারা বর্তমানে কোথায় রয়েছে তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার (Pulwama Terrorist Attack) তদন্ত করতে গিয়ে একটি ফোন নাম্বার পায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। দেখা যায় মুর্শিদাবাদ থেকে ফোন করে বিভিন্ন নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে দেশের কয়েকটি প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা জঙ্গিদের। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু করে আল-কায়েদার এই জঙ্গিদের আছে পৌঁছে যায় এনআইএ (NIA)। জঙ্গিদের মূলসূত্র খুঁজতে উঠে পড়ে লেগেছে নেশনাল ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সি।
প্রসঙ্গত, শনিবার ভোর রাতে মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার হয় ৬ সন্দেহভাজন আল কায়দা জঙ্গি। এনআইএ সূত্রে খবর, ওইদিন সকালে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়ে ওই ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। কেরলের এর্নাকুলাম থেকেও ৩ জন সন্দেহভাজন আল কায়দা জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তানের আল কায়দা মডিউলের যোগ রয়েছে। ওই জঙ্গিদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসবাদী হামলার ছক ছিল বলে এনআইএ সূত্রে দাবি। ধৃতদের থেকে জেহাদি নথি, অস্ত্র ও বিস্ফোরক বানানোর নথি উদ্ধার হয়েছে। এক বিবৃতিতে এনআইএ জানায়, কেরল ও পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আল কায়দার আন্তঃরাজ্য মডিউলের কথা জানতে পারে এনআইএ। এই গোষ্ঠী লোকজনকে হত্যা করতে ও সন্ত্রাস ছড়াতে ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে হামলার ছক কষছিল।
কিন্তু, এনআইএর এই গোপন অভিযান নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয় রাজ্য প্রশাসনের। রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে কেন মুর্শিদাবাদে আল-কায়দার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিদের গ্রেফতার করা হল, তা নিয়ে তরজা শুরু হয় এনআইএ-নবান্নের। নবান্ন তো দূরঅস্ত, মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) জেলা পুলিশ সুপারকেও নাকি তল্লাশির প্রাক মুহূর্ত পর্যন্ত কোনও তথ্য জানায়নি এনআইএ। ধরপাকড় শেষ হয়ে যাওয়ার পর এনআইএ-র অধিকারকরা রাজ্য পুলিশকে বিষয়টি প্রসঙ্গে জানান। সূত্রের মতে, এই ঘটনায় নবান্ন এতটাই চটেছে যে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কর্তার কাছে এর ব্যাখ্যা চেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র (West Bengal DG Virendra)। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে রাজ্য জুড়ে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news