চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
অধীর চৌধুরীর (Adhir Chowdhry) সভাপতির দায়িত্ব নিতেই প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরে উঠে গেল স্বজনপোষণের অভিযোগ। ‘যোগ্য’ নেতাদের বাদ দিয়ে নিজের শিবিরের নেতাদের বসানোর কাজ শুরু করেছেন বহরমপুরের সাংসদ, প্রথম দিনেই এমন অভিযোগ উঠল বিধান ভবনের (Bidhan Bhaban) অন্দরে। বুধবার রাতে সভাপতি হিসেবে এআইসিসি (AICC) থেকে ঘোষিত হয় অধীর চৌধুরীর নাম। বৃহস্পতিবার বিধান ভবনে এসে দায়িত্বভার গ্রহণ করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেই সাংবাদিক বৈঠকেই আগামী বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে বামফ্রন্টের (Left-Front) সঙ্গে জোট সম্পর্ক জোড়া লাগানোর আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে একটি কমিটি গঠন করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।
বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান, কংগ্রেস পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক তথা বহরমপুরের বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী, নেপাল মাহাতো ও ঋজু ঘোষালকে নিয়ে গঠিত হয়েছে এই কমিটি। শেষ নাম টি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। শোনা যায় আইনজীবী ও দেবী ঘোষালের ভ্রাতুষ্পুত্র ঋজু ঘোষাল অধীর চৌধুরীর স্ত্রী অতসী দেবীর আত্মীয়। কংগ্রেসে অমিতাভ চক্রবর্তী ও শুভঙ্কর সরকারের মত পরবর্তী প্রজন্মের অভিজ্ঞ নেতাদের বাদ দিয়ে কেন ঋজু ঘোষাল, এই প্রশ্ন উঠেছে বিধান ভবনে। বিশেষ করে বামেদের সঙ্গে বোঝাপড়ার তুলনায় অনভিজ্ঞ নেতাকে এই কমিটিতে জায়গা দেওয়া ভাল চোখে দেখেন নি প্রদেশ কংগ্রেসের অনেকেই।
প্রদীপ ভট্টাচার্য্য, অধীর চৌধুরী ও আবদুল মান্নানের পরবর্তী প্রজন্মের নেতা হিসেবে এই দুই নেতার পরিচিতি কংগ্রেসের অন্দরমহল থেকে শুরু করে রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট। ছাত্র পরিষদ থেকে শুরু করে যুব কংগ্রেস হয়ে প্রদেশ কংগ্রেস রাজনীতিতে একের পর এক ধাপ অতিক্রম করে উঠে এসেছেন এই দুই নেতা। কংগ্রেসে প্রিয় শিবিরের লোক হওয়া সত্ত্বেও সোমেন মিত্র সভাপতি থাকাকালীন অমিতাভ চক্রবর্তী হয়ে উঠেছিলেন তাঁর অন্যতম আস্থাভাজন। সভাপতি হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব নিয়েই অধীর চৌধুরী নিজের মতো করে ঘুঁটি সাজানোর শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে কমিটি ঘোষণার পরেই। তাই বিধান ভবনে আলোচনা শুরু হয়েছে, স্বজনপোষনের দাবার সেই চালেই বাদ পড়েছেন অমিতাভ-শুভঙ্কর।
প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচনে বাম কংগ্রেস জোট ভেস্তে যাওয়ার পর, সোমেন মিত্র ধীর গতিতে জোট প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার কাজ শুরু করেছিলেন। একুশের নির্বাচনের আগে আবারও দুই শিবির রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তার খাতিরে কাছাকাছি এসেছে। কারণ, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে যেভাবে রাজ্যের জনমত স্পষ্ট বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে বিভাজিত হয়েছে, তাতে চিন্তা বেড়েছে কংগ্রেস-বামফ্রন্টের। এমন অস্তিত্ব সংকটের সময় শিবির বিভাজনের রাজনীতি কংগ্রেসের অন্দরে কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা অমিতাভ চক্রবর্তীর ছোট্ট প্রতিক্রিয়া, “সভাপতি যাকে যোগ্য মনে করেছেন তাঁকেই তিনি বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট আলোচনায় এগিয়ে নিয়ে যেতে কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। আমি হয়ত ততটা যোগ্য নই।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news