দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়
:
পণ্ডিতরা বলেন রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প। রাজনীতি যে ইঙ্গিতেরও শিল্প তা এখন প্রায় প্রতিদিন বোঝাচ্ছেন মুকুল রায়। বুধবার উপ-রাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডুর কাছে সবুজ জওহর কোট পরে পদত্যাগপত্র জমা দিতে গিয়ে তা আরও একবার বোঝালেন মুকুল!
কোটের রঙেই কী বোঝালেন তাঁর পরবর্তী গন্তব্য গেরুয়া-বিজেপি নয় বরং সবুজ রঙের জোড়াপাতা, নতুন দল জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির চিহ্ন!
পরে সাংবাদিক বৈঠকে কথার ছত্রে ছত্রে বুঝিয়েছেন কেন্দ্রে কংগ্রেসে নয় তিনি বিজেপির দিকে ঝুঁকে। তৃণমূল ছাড়ার পর কে তাঁর রাজনৈতিক শত্রু? প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, এটা নির্ভর করছে। দিল্লিতে একরকম, রাজ্যে আর একরকম।
বলেছেন, দলে সবাই কমরেড, কেউ চাকর নয়। দলটাকে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জানা মুকুল এই একটি মন্তব্যেই ছুঁয়ে ফেলেছেন তৃণমূলের অসংখ্য কর্মী ও ছোট-মাঝারি নেতাদের। যাঁরা দলকে ভালবেসে, সম্মানের সঙ্গে দল করতে চান, কিন্তু কাঙ্খিত সম্মানটুকু পান না। বিকল্প নেই বলে কোথাও যেতেও পারেন না। কালীঘাটের ঘনিষ্ঠতার শংসাপত্র থাকলেই এক শ্রেনীর নেতা দলীয় কর্মী ও তাঁদের চেয়ে পদমর্যাদায় ছোট নেতাদের অবলীলায় অসম্মান করেন। এমনকি এক সাংসদের নিরাপত্তাকর্মী, সংসদীয় এলাকার পুরসভার চেয়ারম্যান -কাউন্সিলরদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এমন উদাহরণও আছে। মুকুল কর্মীদের এই দুরবস্থার কথা এদিন ছুঁয়ে গেছেন।
মুকুলের রাজনৈতিক জীবনের শুরু কংগ্রেসে সোমেন মিত্রের গোষ্ঠীতে। কংগ্রেস -রাজনীতিতে সোমেন সংস্কৃতি প্রচারবিমুখ, নিভৃত, আড়ম্বরহীন, ঢক্কানিণাদবর্জিত। সংবাদমাধ্যমকে খুশী করার দায় এই সংস্কৃতির নেই। মুকুলের সঙ্গে সোমেন মিত্রর সম্পর্ক এখন কাছে-দুরে যাই হোক না কেন তাঁর ঘরাণা সোমেনের। চ্যানেল হিন্দুস্তান মঙ্গলবারেই খবর করেছিল এদিন কোনওরকম বাড়াবাড়ি করবেন না মুকুল। আস্তিনের তাস লুকিয়েই রাখবেন। লুকিয়েই রেখেছেন। মমতার মত বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্মুখ সমরের প্রথম দিনে বাঘের নাকে নস্যি দেওয়ার ভুল করেননি তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও গুরুতর অভিযোগ করেননি। এদিন শুধু যুদ্ধ শুরুর শিঙা বাজিয়েছেন। তবে শিঙার শব্দে প্রতিপক্ষের হাড়ে কাঁপন ধরানোর উপাদানও ছিল। তৃণমূল থেকে বেরিয়ে কারা তাঁর পাশে দাঁড়াবে?এমন একটি প্রশ্নের উত্তরে মুকুল বলেছেন, অন্য দলে থেকেও পাশে থাকা যায়। এই বাক্যটি তৃণমূল নেতৃত্বের মাথাব্যথার জন্য যথেষ্টরও বেশি। গোষ্ঠীদ্বন্দে জর্জরিত তৃণমূলের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস তৈরি করার জন্য মোক্ষম।
অন্যদিকে, মুকুল গেছে, বাঁচা গেছে জাতীয় বক্তব্য পেশ করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন তিনজনকে নিয়োগ করেছিলেন। মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও তাপস রায়। সাংবাদিক বৈঠকে মুকুলের বক্তব্য খণ্ডন করতে সিংহভাগ শব্দ খরচ করেছেন পার্থ। অল্প কথা বলেছেন বা বলার সুযোগ পেয়েছেন ২০০৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে আসা চন্দ্রিমা। তাপস চুপ করেই ছিলেন। ‘গুরুত্বহীন মুকুল বিদায়’ ‘পালন’ করতে মমতার ক্যাবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা কেন এত সময় ও শব্দ খরচ করলেন, দলের মধ্যেই সেই প্রশ্ন উঠেছে। পার্থ বলেছেন, অনেকদিন পর তিনি শান্তিতে ঘুমোবেন। ‘গুরুত্বহীন’ মুকুলের জন্য তাঁর কেন এতদিন শান্তিতে ঘুম হয়নি, এদিন অবশ্য সেই প্রশ্ন কেউ করেননি।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news