দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়

আর কেউ না বুঝুক, রাজ্য রাজনীতির গোকুল যে আসলে মুকুল, সে কথা বিলক্ষণ বুঝেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!
২০১৬-১৭ থেকে ২০২০-২১ এই সময়কালের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস কে অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখে যাঁরা ফেলেছেন তাঁদের মধ্যে মুকুল রায় শুধুমাত্র অন্যতম নন, বরং বিশেষ একজন।

অমিত শাহ নিজ মুখেই বলেছেন ২০১৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কে ক্ষমতাচ্যুত করতে তাঁরা প্রস্তুত ছিলেন না।
তারপরেই ২০১৭ তে অমিত শাহের ঘোষণা ‘TMC কো উখাড় কে ফেক দেঙ্গে।’

বাতাসে তখন থেকেই মুকুলের দলত্যাগের গুঞ্জন। বিজেপি যোগের গুঞ্জন। শাহ কে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন, ‘হতে পারে, তবে আমার লেভেলে এখনও কথা হয় নি।’
এক্ষেত্রে লেভেল বলতে বুঝতে হবে দলে শাহের পদমর্যাদা। তিনি তখন বিজেপির সভাপতি।
এরপর ২০১৮ তে বিজেপিতে যোগ দিলেন Mukul Ray । দলে যোগ দিয়ে প্রথমদিনেই বলেছিলেন, ‘Dilip Ghosh দল কে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছেন, আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমি আরও একটু চেষ্টা করব।’
সেই চেষ্টা করতে গিয়ে উনিশের লোকসভা নির্বাচনে বড় ভূমিকা নিয়েছেন। দল তার ফলও পেয়েছে।
তবে একইসঙ্গে উপেক্ষা করলে চলবে না, দিলীপ ঘোষের ভণিতাবিহীন, স্পষ্টবাক, যেমন কুকুর তেমন মুগুর গোত্রের রাজনীতি।
এত কিছুর পরে একুশের ভোটে মুকুল এবার প্রার্থী। বিলার্দো ম্যাচ
খেলতে নেমেছেন! কিংবা ম্যাচের পর ম্যাচ বার করা কোনও নন প্লেয়িং ক্যাপটেন ব্যাট হাতে দাঁড়িয়েছেন তে-কাঠির সামনে!

অঙ্কের হিসেবে মুকুলকে ভাল আসন দিয়েছে বিজেপি। বিজেপি ওখানে অ্যাডভানটেজ পজিসনে। তৃণমূল মুকুলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছে ঠিকই কিন্তু কোনও প্রতিআক্রমণ নেই। দলের মুখপাত্র এবং একুশের নির্বাচনে দলের সম্ভবত সবচেয়ে সক্রিয় মুখ কুনাল ঘোষ মুকুলের বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থীর পাশে বসে বলেছেন ২০১৪ সালে মুকুল মোদি সম্পর্কে কী বিরুপ কথা বলেছেন। নারদা কাণ্ডে মুকুলের ভিডিয়ো দেখিয়ে কী বলেছিল বিজেপি। কে কবে বলেছিলেন ভাগ মুকুল ভাগ।

এসব শুনে মৃদু হাসছে মুকুল মহল। ‘গোপাল ভাঁড়ের মত মহান বুদ্ধিমান মানুষের শহর কৃষ্ণনগর।’ মুকুল মহলের মতে, ‘এই শহরের একটি শিশুও জানে, দলের সাংবাদিক বৈঠকে দলের অবস্থান বলা কখনও কারও নিজের কথা হয় না।’
‘এই সহজ সত্যটি কুনাল ঘোষের মতো সাংবাদিক জানেন না!’ এই নিয়ে হাসাহাসি করছেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা।
তাঁদের মতে, কুনাল মমতা সম্পর্কে যেসব কথা বলেছিলেন সেগুলো বরং তাঁর নিজের কথা ছিল। ডেলো তে সুদীপ্ত সেন-গৌতম কুণ্ডুদের সঙ্গে মমতার সাক্ষাৎ, কিংবা KD Singh কে অন্য রাজ্য থেকে নিয়ে এসে কেন রাজ্যসভার সাংসদ করেছিলেন মমতা? কিসের তাগিদে? এইসব প্রশ্ন যে অন্য কেউ নন, স্বয়ং কুনাল তুলেছিলেন, সেই কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন বিজেপির নেতারা।
নারদা কাণ্ডে যে মানুষটি ম্যাথু স্যামুয়েলের সঙ্গে দেখা না করে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, সেই দীনেশ ত্রিবেদীও এখন মুকুলের পাশে।
মমতার নির্দেশে যে মানুষটি মুকুলের বিরুদ্ধে খুনের মামলার ছক করেছিলেন বলে শোনা যায়, সেই গৌরীশঙ্কর দত্তও এখন মুকুলের পাশে।

“শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বিশারদ অমিয় নাথ সান্যালের শহরে বসে রাজ্যকে অন্য সুরে বাঁধার কাজ নীরবে করছেন মুকুল-গৌরীশঙ্কররা। সেখানে কোনও মোটা দাগের কর্কশ স্বর পৌছচ্ছে না।”
মুকুল ঘনিষ্ঠ এক প্রবীন নেতা এভাবেই তৃণমূলের আক্রমণ কে ব্যখ্যা করলেন প্রচার শেষের সন্ধ্যায়।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news