নিজস্ব সংবাদদাতা:
হয় একটা সিনেমা তৈরি সম্পূর্ণ হবে, অথবা সেই চিত্রপরিচালককে আত্মহত্যা করতে হবে। এমন নির্মম অবস্থানের কথা সচরাচর শোনা যায় না। যা ঘটেছিল বাংলাদেশের এই প্রজন্মের স্বনামধন্য চিত্রপরিচালক মাসুদ পথিকের সঙ্গে। না, মাসুদের ইচ্ছে শক্তি-ই বলি বা সাহসী ভাগ্যের জোর, শেষ পর্যন্ত ছবিটা তৈরি হয়। আত্মহত্যা করতে হয়নি তরুণ শিল্পীকে। এমনকি সেই সিনেমা সাত সাতটি জাতীয় পুরস্কার জিতে নেয় সে বছর। এবার কলকাতার তথা পশ্চিমবঙ্গের মনও জিতলেন লড়াকু মাসুদ।

গত শুক্রবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মাসুদ পথিকের সম্মানেই কলেজস্ট্রিট কফি হাউজের বইচিত্র সভাঘরে ‘ছবির দেশে, কবিতার দেশে’ শিরোনামে একটি মনজ্ঞ আয়োজন করেছিল সাউথ এশিয়ান লিটারারি ফোরাম। মূল অনুষ্ঠান ছিল মাসুদ পথিকের একক কবিতাপাঠ। প্রসঙ্গত, মাসুদ যেমন সফল চিত্রপরিচালক, তেমনি পদ্মাপারের উদীয়মান কবি প্রতিভাও বটে। এদিন পরিচালক-মাসুদ নিজের সিনেমা-দর্শন ভাগ করে নেন উপস্থিতি সকলের সঙ্গে। জানা যায়, অবাণিজ্যিক ছবি করতে গিয়ে নিজের জমি-বাড়ি বেচে দিতে বাধ্য হন তিনি।
শুক্র-সন্ধ্যায় মাসুদ পথিককে সংবর্ধনা দেয় সাউথ এশিয়ান লিটারারি ফোরাম। মাসুদের হাতে সম্মাননা-উপহার তুলে দেন কিংবদন্তি কবি মৃদুল দাশগুপ্ত, সঙ্গে ছিলেন কবি রামকিশোর ভট্টাচার্য। এবং ছিলেন এই প্রজন্মের পরিচিত কবিমুখ কিশোর ঘোষ, তন্ময় মণ্ডল, সৈকত ঘোষ প্রমুখ। নিজের বক্তব্যে, ‘জলপাই কাঠের এসরাজ’-এর কবি মৃদুল মনে করিয়ে দেন, কেউ বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গের কবি নন, আমরা আসলে বৃহত্তর বাংলা ভাষার কবি।

অনুষ্ঠানে দু’বাংলার কবিতা তথা সার্বিক শিল্পচর্চা নিয়ে আলোচনা করেন রামকিশোর ভট্টাচার্য, অলোক বিশ্বাস, বিভাস রায়চৌধুরী ও তন্ময় চক্রবর্তী। শুরুতে ছিল একাধিক তরুণ আবৃত্তি শিল্পীর মনজ্ঞ পরিবেশন। শেষপাতে জমে যায় আলোচনা। দু’বাংলার কবিতা ও সিনেমা নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অলোক বিশ্বাস, তন্ময় চক্রবর্তী, কিশোর ঘোষ, সৈকত ঘোষ, তন্ময় মণ্ডল এবং মধ্যমণি মাসুদ পথিক।
এখন বাইরে হয়তো ভোট-প্রচার-রাষ্ট্র। শুক্রবার সন্ধ্যায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাতে কালবৈশাখীও জানান দিচ্ছিল। তথাপি বইচিত্র সভাঘরে বর্ডার ছিল না বাস্তবিক। মৃদুল দাশগুপ্তের কথা সত্যি করে বহু অতীত-অশ্রু, কাঁটাতার ম্যাজিক করে মুছে গেছিল!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news