ওয়েব ডেস্ক:
রাখঢাক না রেখে পুরুলিয়ায় দলের নেতাকর্মীদের মমতা বললেন, ‘যতটুকু লাগবে ততটুকু নিন।’ এমনকী খুল্লামখুল্লা টাকার জন্য রাজনীতি করতে বারণ করলেন। অর্থাৎ, যে কথা প্রতিটি জনসভায় বিরোধীরা বলে থাকেন, যা বর্তমানে মোদি-অমিত শাহ জুটির অন্যতম অস্ত্র বটে, সেই দুর্নীতি তথা দলের সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মুখ খুললেন এদিন। তবে এর আগেও বহুবার দলের নেতা কর্মীদের লোভ কমাতে বলেছেন তিনি। দলীয় বৈঠকে বার বার বলেছেন, তৃণমূলে থাকতে হলে এসব চলবে না। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে পুরুলিয়ায় মতো এমন সোজাসাপটা বলতে শোনা যায়নি মমতাকে।
এদিন পুরুলিয়ায় ভোটপ্রচারে গিয়ে মমতা বলেন, ‘রাজনীতি সেবার জন্য, ব্যবসা করার জন্য নয়৷ আপনার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু নিন৷ মাথার উপর একটা ছাদ প্রয়োজন, কাজের জন্য দু-টাকা বা চার টাকার প্রয়োজন, মাছ ভাতও নিশ্চয়ই খাবেন৷ কিন্তু কোটি কোটি টাকা রোজগার করার জন্য রাজনীতি করবেন না৷’ এরপর মমতা বলেন, ‘মুক্তো দিয়ে মাছের ঝাল-টক খাবেন নাকি সোনাগুলো ভেজে ভেজে খাবেন? কী করবেন এত টাকা?’
এরপর নিজের উদাহরণ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বলেন, ‘আমি সাতবার সাংসদ হয়েছি৷ প্রত্যেক বছর একলক্ষ টাকা করে পেনশন পাই৷ কিন্তু একটাকাও পেনশন নিই না৷ আটবছর ধরে একটাকাও নিইনি৷ এমনকি কোনও সরকারি পরিষেবার সুবিধাও নিই না৷ সরকারি কাজে সার্কিট হাউসে থাকলেও সেই খরচ সরকারি কোষাগার থেকে নয়, নিজের থেকেই খরচ করি৷’
প্রশ্ন হচ্ছে, দলনেত্রী এভাবে বলার পরও কী দলীয় কর্মীরা নিজেদের বদলাবেন? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, তা আর সম্ভব নয়। দীর্ঘ দিন ধরে যা চলছে, তা হঠাৎ বললাম আরও বদলে গেল, এমন সম্ভব না। এইসঙ্গে তাঁদের প্রশ্ন, হঠাৎ ভোটের সময় এমন ভালো ভালো কথা বলার মানেটা কী? এই বাণী দলীয় কর্মীদের জন্য নাকি ভোটারদের সামনে নিজের ভাবমূর্তি ফেরাতে!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news