নীল রায়। ভাইপোর পর এবার তৃণমূলের সংগঠনের ভাইদের নিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! কালীঘাটের বৈঠক শেষে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়হিন্দ বাহিনীর কমিটি ঘোষণা করে তৃণমূল নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, জয়হিন্দ বাহিনীর সভাপতি করা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে, আহ্বায়ক হয়েছেন তাঁর আরও এক ভাই গণেশ। কার্তিক-গণেশকে সহযোগী হিসেবে জয়হিন্দ বাহিনীর চেয়ারম্যান পদ দেওয়া হয়েছে নাট্যকার মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও ভাইস-চেয়ারম্যান হলেন গায়ক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। ২০১১ সালের ২১ জুলাইয়ের ব্রিগেড সমাবেশে তৃণমূল রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাই অমিতের একমাত্র ছেলে অভিষেককে ২০১৪ সালে ডায়মন্ডহারবার থেকে লোকসভা ভোটে দাঁড় করান মমতা। ৭১ হাজার ভোটে জিতে সংসদে যান অভিষেক। ওই বছরই তাঁকে দলের সর্বভারতীয় ও রাজ্য যুব সংগঠনের সভাপতি করে দেন পিসি। গত পাঁচ বছরে অভিষেক এই পদে বহাল রয়েছেন। এবারের ভোটেও সাংসদ হিসেবে ডায়মন্ডহারবার থেকে জিতেছেন তিনি। কিন্তু দায়িত্বে থাকা বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর ও পুরুলিয়া আসনে হয়েছে দলের পরাজয়। তারপরই ভাই কার্তিক ও গণেশকে জয়হিন্দ বাহিনীর সংগঠনে এনে পরিবারতন্ত্রকেই মজবুত করলেন মমতা, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। অভিষেকের সঙ্গে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে তাঁর দুই কাকার। অভিষেক সর্বদাই নিজেকে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘিরে রাখেতে পছন্দ করেন, সঙ্গে বিলাসবহুল জীবনধারায় অভ্যস্ত। অপরদিকে, কার্তিক-গণেশ স্কুটার চড়ে ঘুরে বেড়ান কালীঘাট, ভবানীপুর সহ গোটা দক্ষিণ কলকাতা। নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে মেশেন সহকর্মীদের মতো। কার্তিক হাজরা ক্যান্সার রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি করেন। গণেশ পেশায় ব্যবসায়ী। পরিবার সূত্রে প্রথমদিন থেকেই কার্তিক-গণেশ তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। তবে সাংগঠনিক পদ কোনদিনও জোটেনি তাদের। কিন্তু, আচমকাই নিজের দুই ভাইকে এহেন দলের শাখা সংগঠনের দায়িত্ব আনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। দলের সঙ্গে পরিবারেও কী ভাঙ্গনের আশঙ্কা করছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো? তাই কি তড়িঘড়ি দুই ভাইকে সংগঠনের মাথায় বসানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি?
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news