ঈষাণিকা ভোরাই :
৭/৮ মাস পর পাহাড়ে এসে দু দিন কাটিয়ে পাহাড়ের মন জয়ে কতটা সফল হলেন মুখ্যমন্ত্রী? এককথায় বলা যায় আপাতত তিনি কিছুটা সফল হলেও বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা থেকে গেল। বৃহস্পতিবার দার্জিলিংয়ের রাজভবনে সর্বদল বৈঠক ডেকেছিল রাজ্য সরকার। মূল উদ্দেশ্য ছিল পাহাড়ের উন্নয়নে সব দলের সহযোগিতা এবং এক হয়ে চলাটা নিশ্চিত করা। বৈঠকের শেষে মমতার মন্তব্য, “রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে থাকলে, একসঙ্গে কাজ করলে তবেই পাহাড়ের উন্নয়ন হবে”। সূত্রের খবর বৈঠকেও তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছেও এই আবেদন রাখেন। বৈঠকে তিনি বলেছেন, “এখন এক বছর সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করা উচিত”। কিন্তু যে সর্বদলের কথা ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে সেটা কী সত্যিই সর্বদল ছিল! পাহাড়ের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মোর্চা, জিএনএলএফ, গোর্খা লীগের নেতারা উপস্থিত থাকলেও এই বৈঠককে এড়িয়ে গেছেন পাহাড়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হরকা বাহাদুর ছেত্রীর “জন আন্দোলন পার্টি” বা “জাপ”। ছিলনা সিপিএম, কংগ্রেস,সিপিআরএম বা বিজেপির কোনও প্রতিনিধি। ফলে বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার এই বৈঠকে শুধু তাদেরই ডেকেছে যারা মুখ্যমন্ত্রীর হ্যাঁ তে হ্যাঁ মেলাবে।
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ” যারা গোর্খাল্যান্ড পুলিশ (GLP)-এ কাজ করত এবং যাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই তাদের সিভিক ভলেন্টিয়ার এর কাজ দেওয়ার চেষ্টা করব”। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় উষ্মা প্রকাশ করে বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী অনেক আগেই এই কথা বলেছিলেন কিন্তু এখনও কিছু হয়নি”। সাম্প্রতিক সময়ে মোর্চা নেতা অনিত থাপার এক মন্তব্যের পর মোর্চা ও জিএনএলএফের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। জিএনএলএফ নেতা মন ঘিসিং তো জিটিএ ভেঙে দেওয়ারও দাবি জানান। মমতা খুব ভালো করেই জানেন পাহাড়ে যে শান্তির পরিবেশ ফিরে আসছে সেটা আবার বিগড়ে যেতে পারে এই দুই দলের বৈরিতায়। তাই বৃহস্পতিবারের বৈঠকে মূলত এই দুই দলকে কাছাকাছি আনার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সর্বদল বৈঠক হলেও বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানদেরও ডাকা হয়েছিল আজ। মুখ্যমন্ত্রী তাদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন। এক্ষেত্রেও উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে জিটিএ-র এক্তিয়ারও এইসব বোর্ডগুলির এক্তিয়ার নিয়ে ওঠা সমস্যাকে মেটানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে এইসব রাজনৈতিক কূটকাচালির মধ্যে এখন আর যেতে নারাজ পাহাড়ের সাধারণ মানুষ। তাদের কাছে এখন সবচেয়ে বেশি যেটা জরুরি তা হলো শান্তি। পাশাপাশি পাহাড় ছাড়া বিমল গুরুঙ্গের প্রতিও কিছু মানুষের সহমর্মিতা এখনও বজায় রয়েছে। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর শুধুমাত্র জল মাপার সফর বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news