দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় :

তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো ফুলের তোড়া এই কথাই বলল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বর্ষীয়ান রাজনীতিক সোমেন মিত্রকে। ২০১৪ সালে জোড়াফুল ছেড়ে ছিলেন সোমেন মিত্র। ছ’বছর পার করে ফুল এল সোমেন মিত্রর জন্য আরোগ্য কামনার বার্তা নিয়ে। একুশের আগে এই আপাত নিরীহ পুস্পস্তবকের ভূমিকা কি শুধু এইটুকুই? এর আগেও সোমেন মিত্র অসুস্থ হয়েছেন। বছর দু’এক আগে দীর্ঘ রোগভোগ করেছিলেন। দিল্লির এইমসে ভর্তি ছিলেন অনেকদিন। তখন কি কোনও ফুল এসেছিল মমতার পক্ষ থেকে? কোনও শুভেচ্ছা? কোনও সৌজন্য? না, তেমন কোনও খবর নেই।

সোমেন মিত্র যে সময় তৃণমূলে গেছিলেন, সে সময় তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা থাকলেও নিশ্চয়তা ছিল না। শহীদ মিনারে সভা করে ও সেই সভা সফল করে শেষ বারের মত নিজের ক্ষমতা বুঝে নিয়েছিলেন সোমেন এবং বুঝিয়েও দিয়েছিলেন। তাঁর একার ডাকে যে শহীদ মিনার ভরে, সেই শক্তি প্রদর্শন করে সোমেন জোড়াফুল হাতে তুলে নিয়েছিলেন। তারপর যে দিন আবার কংগ্রেসে ফিরেছিলেন সেদিন তৃণমূলে ভরা পৌষমাস। তাঁর তৃণমূলে যাওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ঐতিহাসিক ভুল ছিল কিনা তার বিবিধ ব্যখ্যা হতে পারে, তবে একুশের আগে মমতার পাঠানো ফুল রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের পূর্ব পাঠের পুনরালোচনা করার দিকে ঠেলছে বৈ কী!

বিজেপি যে ভাবে রাজ্য রাজনীতি তে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে, রাজ্য বিজেপির শত সমস্যা থাকলেও তৃণমূলের বিকল্প হিসেবে মানুষ বিজেপিকেই বেছে নিচ্ছে। এরই মধ্যে বাম-কংগ্রেস জোট ২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত একপ্রকার স্থায়ী হয়েছে বা এখনও রয়েছে। তৃণমূল বিরোধী ভোট বা মমতার প্রতি অনাস্থা জানানো সাধারণ মানুষের ভোট কিছুটা হলেও কং-বাম জোটের দিকে গেলে আখেরে লাভ মমতারই। ফলতঃ সেই সম্ভাবনার সলতে পাকাতেই মমতা আজ ফুলের তোড়া পাঠান নি এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় না।
কংগ্রেস, তৃণমূল ও বাম, বিজেপির প্রতি রাজনৈতিক অবস্থানের প্রশ্নে এরা সকলেই এক দিকে। অন্তত নীতিগত ভাবে একদিকে। একুশে মমতা যে বিজেপির বিরুদ্ধে মহাজোটের ডাক দেবেন না, সে কথাও এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। বরং বলা চলে কিছুদিন আগে সিঙুর আন্দোলনে মমতার অন্যতম মেন্টর পিডিএস নেতা সমীর পুততুণ্ড করোনা আক্রান্ত হয়েছেন শুনে মুখ্যমন্ত্রীর ফোন আর আজ, সোমবার, সোমেনের রোগশয্যায় পাঠানো ফুল কোথায় যেন একই সুতোয় বাঁধা রয়েছে!
মমতা পারেন। যে সোমেন মিত্রকে বাড়ি ব’য়ে এসে তৃণমূলে নিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি অসম্মানিত হয়ে দল ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর (মমতা নিজে কখনও সরাসরি অসম্মানজনক কোনও আচরণ করেন নি) ছ’বছর উদাসীন থেকে আজ একুশের সংকট থেকে উদ্ধার পেতে আবার ফুল পাঠাতে পারেন। দরকারে আরও নানাবিধ সদর্থক ও সৌজন্যমূলক আচরণ করতে পারেন। তিনি চব্বিশ ঘন্টার রাজনীতিক। যে সমীর পুততুণ্ড সিঙুর আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, সেই সমীর পুততুণ্ড ২০১১-র নির্বাচনে পিডিএসের জন্য একটি আসন চেয়ে পান নি, মুখ শুক্ন করে, কিছুটা হতবাক হয়ে কালীঘাটে নেত্রীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। তারপর দশ বছর পেরিয়ে বিস্মৃতির অতল থেকে উঠে এসে সমীর পুততুণ্ড কে ফোন করেছেন মমতা।
আরোগ্য কামনা ছাড়া সোমেন কে পাঠানো মমতার ফুল আর কী কী বলল বা বলবে তা শুনতে আগামী দিনগুলোতে কান পেতে থাকতে হবে রাজনীতি রসিকদের।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news