নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
অনেক রকম বেদনার মুখোমুখি ফেলে দিল সে আমাদের। পুরনো ভাঙা কাচের মতো প্রশ্ন ছড়িয়ে দিল রাজ্যের হত্তা-কর্তা-বিধাতাদের সামনে, কোচবিহারের ছেলে সিরাজি আলম। কেরলে বন্যায় আটকে পড়ে অসুস্থ হয়ে মরে গেল সিরাজ! দুটো পয়সার জন্য ভিনরাজ্যে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গেছিল সে। বুধবার গ্রামে ফিরল তার নিথর দেহ।
কিন্তু কেন? কেন বলুন তো? সিরাজির নিথর দেহ ফিরবে কেন গ্রামে? বৃদ্ধ মা-বাপকে কেন দেখতে হবে জলজ্যান্ত যুবক ছেলের মৃত্যু? লোকে বলবে কেরলের ভয়ঙ্কর বন্যায় মারা গেল তাই। মোটেই না। সে আসলে মারা গেছে শিল্পহীন, কলকারখানাহীন, দুর্নীতিতে মামলা মোকদ্দমায় সরকারি চাকরির পরীক্ষাহীন পশ্চিমবঙ্গের বেকারিতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যের বেরোজগারিতে। কারণ দ্বিতীয় প্রশ্ন— একটা এমএ পাশ ছেলেকে রাজমিস্ত্রির কাজ বেছে নিতে হয় কখন? যখন তাঁর যোগ্য কাজ সে খুঁজে পায় না। অর্থাৎ সরকার যখন রাজ্যের এক শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থানের বন্দবস্তো করতে পারে না।
তাছাড়া আমাদের জানা হয়ে গেছে সিরাজি সহজে হাল ছাড়ার ছেলে ছিল না। লড়াই লড়াই লড়াই। জন্ম থেকেই লড়ে গেছে সে। চরম দারিদ্রের সঙ্গে। লড়াই করেই পড়াশোনাটা করেছিল। এম.এ পাশ করেছিল। নেমেছিল জীবিকার সন্ধানে। কিন্তু হায়, এ রাজ্যে চাকরি জোটে না সিরাজি আলমের মতো সুশিক্ষিত যুবকের। কিন্তু বাড়িতে বসে থাকে কী করে ভ্যানচালক বাবার ছেলে। অতএব অনটনের সংসারের হাল ফেরাতে বাধ্য হয়ে এম.এ পাশ সিরাজি রাজমিস্ত্রির কাজ বেছে নিল। এমনকী পাড়ি দিল ভিনরাজ্যে।
কেন ভিনরাজ্যে পাড়ি দেয় রাজ্যের অসংখ্য ঠিকা শ্রমিক? কারণ এ রাজ্যের থেকে সেখানে ঢের ভালো মজুরি মেলে। তাই তো সিরাজের মতো অসংখ্য যুবক সৌভাগ্যের খোঁজে চলে যায় মহারাষ্ট্রে, গুজরাটে, রাজস্থানে, কেরলে…। এসব জানা কথা। কিন্তু সিরাজি আরও বড় বেদনায়, লজ্জায় ফেলে দিল রাজ্যবাসীকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। যে মমতা ঘোষিত ভাবে সংখ্যালঘুদের পাশে। সেই তাঁর রাজ্যের এক শিক্ষিত সংখ্যালঘু যুবকের চাকরি জুটল না! ঘটনা পরম্পরায় বেঘোরে মৃত্যু হল যুবকের!
এবার প্রশ্ন ওঠে—সংখ্যালঘুদের পাশে থাকা মানে কি বক্তৃতার সময় মনে করে ইনশা-আল্লা বলা? সংখ্যালঘুদের পাশে থাকা মানে কি সংবাদ মাধ্যমের উপস্থিতিতে মাথায় কাপড় দিয়ে ইফতার পার্টি করা? নাকি তাঁদের আর্থসামাজিক পরিবর্তনে দিশা দেখানো।
যা একমাত্র সম্ভব শিক্ষার মাধ্যমে। এবং তারপর সেইসব শিক্ষিতদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের কাসিমের হাট এলাকার এমএ পাশ সিরাজি আলম মরে বুঝিয়ে দিল এ রাজ্যে সেসব হচ্ছে না। যা হচ্ছে তা রাজনৈতিক নাটিকা।
মনে পড়ে যাচ্ছে আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পাশে থাকা কবি সুবোধ সরকারেরই সেই অমোঘ কবিতা—‘রূপমকে একটি চাকরি দিন’। রুপমের মতোই তো এমএ পাশ করেছিল সিরাজি!
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news