Breaking News
Home / TRENDING / ঠাকুরপুকুর থানায় ‘স্পেশাল ট্রিটমেন্টে’ মুকুলকে জেরা কলকাতা পুলিশের

ঠাকুরপুকুর থানায় ‘স্পেশাল ট্রিটমেন্টে’ মুকুলকে জেরা কলকাতা পুলিশের

নীল রায়।

ঠাকুরপুকুর থানায় জেরার সম্মুখীন হতে এসে কার্যত কলকাতা পুলিশের থেকে “ভিআইপি ট্রিটমেন্ট” পেলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায় (Mukul Roy)। সোমবার দুপুর দেড়টা নাগাদ ঠাকুরপুকুর থানায় আসেন প্রাক্তন রেলমন্ত্রী। তাঁকে দেখেই উপস্থিত বিজেপি কর্মীরা ‘মুকুল রায় জিন্দাবাদ’ বলে জয়ধ্বনি দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি দেখে তখন মনে হচ্ছিল, পুলিশি জেরা নয়, ঠাকুরপুকুর এলাকায় কোনও সমাবেশে যোগ দিতে এসেছেন বিজেপির (BJP) এই বর্ষীয়ান নেতা।

কর্মী-সমর্থকদের জয়ধ্বনি শুনে স্মিত হেসে তাদের দিকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান মুকুল। এদিন কলকাতা পুলিশের ভূমিকায় ছিল চোখে পড়ার মতো। মুকুল রায়ের গাড়ি আসতে দেখেই তৎপরতা বেড়ে যায় ঠাকুরপুকুর থানায়। বাইরে কর্তব্যরত পুলিশ বাহিনী নিজ নিজ অবস্থান নিয়ে মুকুল রায়কে ঘিরে ধরেন। পুলিশি ঘেরাটোপ থেকেই কর্মীদের উদ্দেশ্যে মুকুল স্লোগান বন্ধ করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু বেহালা-ঠাকুরপুকুর এলাকার ওই বিজেপি সমর্থকরা স্লোগান বন্ধের বদলে তা আরও বাড়িয়ে দেন। এমন সময় কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা মুকুল রায়কে কার্যত ‘জামাই আদরে’ থানার ভেতরে নিয়ে যান।

প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা জেরা হয় মুকুল রায়ের। বেলা তিনটার কিছু পরে ঠাকুরপুকুর থানা থেকে আবারও কলকাতায় নিজের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন গেরুয়া শিবিরের চাণক্য। সূত্রের খবর, জেরায় অত্যন্ত নরম ভাষায় মুকুল রায়ের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন পুলিশ আধিকারিকরা। দক্ষিণ শহরতলির এক বিজেপি নেতার কথায়, “মুকুলদার সঙ্গে পুলিশ যেভাবে আচরণ করেছে তা দেখে আমরা সত্যিই অবাক। তৃণমূল যখন পুলিশকে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে। ঠিক সেই সময় তাঁকে বিশেষ অতিথির মতো থানার ভিতরে নিয়ে যাওয়া এবং অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জেরা করার বিষয়টি আমাদের চোখে পড়েছে।” ওই নেতা আরও বলেন, “পুলিশ বুঝতে পারছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের মেয়াদ আর বেশিদিন নেই। তাই হয়তো আমাদের শীর্ষ নেতাকে বিশেষ সৌজন্যতা দেখিয়ে আগে থেকেই সেটিং করে রাখতে চাইছে।”

স্থানীয় বিজেপি নেতার এমন মন্তব্যের পিছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সরশুনা থানায় জেরা হয়েছিল মুকুলের। তখনও কিন্তু পুলিশের ভূমিকা এমন ছিল না। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আদি গঙ্গার পাড় দিয়ে বহু গ্যালন জল প্রবাহিত হয়েছে। যেমন সিবিআই রাজীব কুমারকে হন্যে হয়ে রাজ্যজুড়ে খুঁজে বেরিয়েছে। তেমনি নারদ কাণ্ডে হাজতে গিয়েছেন আইপিএস এসএমএইচ মির্জা। সঙ্গে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পাশাপাশি ১ অক্টোবর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সভা করে গিয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ (Amit Shah)। এমনই সমস্ত সমীকরণে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের প্রতি কলকাতা পুলিশের আচার আচরণে পরিবর্তন এসেছে বলেই মনে করছে বাংলার রাজনৈতিক মহল।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *