চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
সীমান্তে একের এক সামরিক ঘাঁটি তৈরি করছে লালফৌজ। অথচ, একই সঙ্গে গালওয়ান উপত্যকায় (Galwon Valley) ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক বললেন চিনা রাষ্ট্রদূত। এমনটা যাতে আর কোনওদিন না হয় সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ভারতে নিয়োজিত চিনের রাষ্ট্রদূত (China Diplomat) সুন ওয়েইডং। বুধবার ভারত চিন সম্পর্ক সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে এমনটাই বলেছেন তিনি। গত জুন মাসে গালওয়ান উপত্যকায় নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ঢুকে পড়া পিপলস লিবারেশন আর্মির (People Liberation Army) সঙ্গে ভারতীয় জওয়ানদের সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর বিহার রেজিমেন্টের এক কম্যান্ডিং অফিসার-সহ ২০ জন ভারতীয় জওয়ান প্রাণ হারান। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভারত-চিন সীমান্ত। সেই থেকে লাগাতার সেনা পর্যায়ে বৈঠক চললেও দু দেশের সীমান্তে যুদ্ধের প্রস্তুতি রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে চিনা রাষ্ট্রদূতের এহেন মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘‘একটা পুরনো চিনা প্রবাদ রয়েছে ‘সমস্যার চেয়েও সমাধানের রাস্তা অনেক বেশি’। ভারত ও চিনের নাগরিকদের ২ হাজার বছরের সম্পর্ক সেই অতিমারি আর গালওয়ান উপত্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনায় নষ্ট হয়ে যেতে পারে না।’’ চিনা রাষ্ট্রদূত ওয়েইডং আরও বলেন, ‘‘এই একুশ শতকে প্রতিবেশী দু’টি দেশের সম্পর্ক কখনও পিছনের দিকে হাঁটতে পারে না। বরং তা আগামী দিনে উত্তরোত্তর আরও মজবুত হয়ে উঠবে।’’
চিনা রাষ্ট্রদূত ওয়েইডং বলেন, “ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত হয়েছে পারস্পরিক মত ও সংস্কৃতির আদানপ্রদানের মধ্যে দিয়ে। প্রায় ৭০ বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অটুট। কোনও বিক্ষিপ্ত ঘটনা সাময়িক ছেদ ফেলতে পারে সম্পর্কে, পাকাপাকিভাবে নয়।” তিনি আরও বলেছেন, “সম্পর্কে ফাটল পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মেরামত করা যায়। এটা কোনও বড় বিষয় নয়।” তিনি বলেছেন, “ইতিহাস সাক্ষী আছে, দুই দেশের সম্পর্ক ২০০০ বছর পূর্বের। মহামারী থেকে শুরু করে অন্য কোনও কিছু বাধা হতে পারেনি সম্পর্কের উন্নতিতে।” চিনা রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘‘এ সব ভুলে গেলে আস্তাকুঁড়ে চলে যেতে হবে। ভুল পথ ধরে হাঁটতে হবে। প্রতিবেশী এই দু’টি দেশের মধ্যে এখন বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতাটাই বেশি জরুরি। সেটাই স্বাভাবিকতা হয়ে ওঠা উচিত। এই লক্ষ্য থাকলে আর যুক্তি দিয়ে সব কিছু বিচার করা হলে দু’দেশের মধ্যে সব সমস্যাই মিটে যাবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দু’টি দেশের দু’টি প্রাচীন সভ্যতাই এটা চাইছে। আর সেটা বাস্তবায়িত করার ব্যাপারে দু’টি দেশই সক্ষম। তাই আমাদের যথেষ্টই বিশ্বাস রয়েছে, আগামী দিনে ভারত ও চিনের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়ে উঠবে।’’
চিনা রাষ্ট্রদূত মুখে এমনটা বললেও সীমান্তে চিনা সেনাবাহিনীর উৎপাত চলছেই। নতুন করে সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তুলছে চিন। আকসাই চিন ও দৌলত বেগ ওল্ডির কাছেও লাল ফৌজের তৎপরতা লক্ষ করা গেছে। শীতের আগে লাদাখের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তা আরও মজবুত করার জন্য অতিরিক্ত ৩০ হাজার সেনা পাঠিয়েছে ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে খবর, ভারতীয় সেনার শক্তি বাড়াতে ইগলা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করা হয়েছে। জওয়ানদের কাঁধে থাকবে এই বিশেষ ধরণের মিসাইল সিস্টেম, যার থেকে শত্রু শিবিরে নিপুণ নিশানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা যাবে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news