ঈষাণিকা ভোরাই:
২০১১ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য জুড়ে একটা পোস্টার ছেয়ে ফেলেছিল। সেই পোস্টারে শুধু দুটি শব্দ লেখা ছিল “পরিবর্তন চাই।” পোস্টারে যে সব মুখগুলো দেখা গিয়েছিল তারা ছিলেন এরাজ্যের তাবড় বুদ্ধিজীবীরা। তারপর কেটে গেছে সাত সাতটা বছর। সেই পোস্টারের অনেক মুখই এখন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কমিটিতে রয়েছেন। কেউ কেউ তো বিধায়ক, সাংসদ বা মন্ত্রীও হয়ে গেছেন। কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ভোল বদল এর এই সিজিন-এ সেই পোস্টারের কিছু মুখ এবার আবার সরাসরি রাজ্য সরকার ও শাসকদলের সমালোচনায় নামলেন। বুধবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করলেন তাঁরা। একনজরে দেখে নি কে কি বললেন।
প্রতুল মুখোপাধ্যায়-“আধিপত্যবাদ কায়েম করে বেশিদিন শাসন ক্ষমতায় থাকা যায় না এটা যেন শাসকদল মনে রাখে।”
বিভাস চক্রবর্তী-“পশ্চিমবঙ্গে যে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন বেশ কিছুদিন ধরেই হচ্ছে না সেটা আমরা জানি কিন্তু এখন এটা যেন মাত্রাছাড়া হয়ে গেছে।”
পল্লব কীর্তনীয়া-“উন্নয়নের মারে মনোনয়ন জমা দেওয়া যাচ্ছে না।”
বিমল চট্টোপাধ্যায়-“এই গণতন্ত্রকে আমি বিকলাঙ্গ গণতন্ত্র ছাড়া আর কিছু বলতে পারছি না।”
এদিকে বুদ্ধিজীবীদের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান,”মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সকলেরই সম্পর্ক ভালো সঠিক তথ্য সবার কাছে নেই। আমরা ওদের সঙ্গে কথা বলবো।” যদিও প্রতুল মুখোপাধ্যায় বা বিভাস চক্রবর্তীদের অভিযোগের সরাসরি কোন উত্তর দিলেন না তৃণমূল মহাসচিব। বুদ্ধিজীবীদের এই অভিযোগ নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন,”ওরা আগে স্বীকার করুন তৃণমূলকে সমর্থন করে ভুল করেছেন।”
প্রতুল মুখোপাধ্যায়, বিভাস চক্রবর্তী বা মীরাতুন নাহার, বিজেপির রাজ্য সভাপতির কথা মতো ভুল স্বীকার করুন বা নাই করুন পরিবর্তনপন্থী বুদ্ধিজীবীদের এই সাংবাদিক সম্মেলন যে শাসক দলকে কিছুটা ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে তা বলাই যায়।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news