চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো:
নুনে পোড়া দাদা বৌদির বিরিয়ানি!
তবে এ বিরিয়ানি সে বিরিয়ানি নয়।ব্যারাকপুরের বিখ্যাত দাদা-বৌদি নয়, এ বিরিয়ানি রাজ্য বিজেপির!
এই পর্যন্ত পড়ে লেখার মোড় কোন দিকে যাচ্ছে তা আর খবরে থাকা পাঠকের বুঝতে বাকি নেই। যাঁরা খবরের চেয়ে সিরিয়াল দেখতে বেশী পছন্দ করেন, তাঁরাও জেনে গেছেন এই দাদা-বৌদির কিসসা। যুব বিজেপির সভাপতি সৌমিত্র খাঁ (Soumitra Khan) ও তাঁর স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল খাঁর (Sujata Mondal Khan ) অশ্রুমোচন সিক্ত থাবা বসিয়েছে টিভি সিরিয়ালের টিআরপি-তে!
দল এবং সঙ্ঘ, উভয়ই যার পর নাই বিরক্ত। বিজেপির একটি সূত্রের খবর, এই ঘটনার পর সৌমিত্র কে যুব সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ভাবনা শুরু হয়েছে। যাঁরা সৌমিত্র কে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে, তাঁদের যুক্তি তাঁকে ওই পদে রেখে দেওয়া হলে তৃণমূল সুযোগ নেবে। নিয়মিত তাঁর স্ত্রী কে দিয়ে কিছু না কিছু বলাবে এবং সৌমিত্র প্রতিক্রিয়া জানালে তা নিয়ে আরও জলঘোলা হবে।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, সোমবার যে সাংবাদিক বৈঠক সৌমিত্র করেন, তা দল অনুমোদন করেনি। সৌমিত্র বলেওছেন যে ওটি তাঁর ব্যক্তিগত সাংবাদিক বৈঠক, তবে নেপথ্যে মোদির ছবি রেখে বিজেপির যুব সভাপতির বিলাপ, দলকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছে।

বিজেপি নেতৃত্বের একটি বড় অংশের মতে সৌমিত্র যা করেছেন এবং নাটকের ‘মনোলগের’ মতো যে সব অতি ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেছেন, তা জনসমাজে ‘খিল্লির’ উপাদান যুগিয়েছে।
আবার সৌমিত্র-সুজাতার দাম্পত্য টানাপোড়েনের যে ছবি জনসমক্ষে এসেছে, বিজেপির একাংশের মতে, এটি নিছক নাটক। সৌমিত্র সম্পর্কে অভিযোগ, তিনি মাত্রাতিরিক্ত রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খী, যা বিজেপির মতো দলে মোটেই ভাল চোখে দেখা হয় না।
তাঁর স্ত্রী সুজাতা কিছুদিন আগে অমিত শাহের সভায় ঢুকে পড়ে সেই সভার ভিডিয়ো করে ফেসবুকে লাইভ করে ছিলেন। যা নিয়ে তখন বেশ শোরগোল হয়েছিল এবং সুজাতাও দলের বিরক্তির কারণ হয়েছিলেন।
তৃণমূলে যোগ দিয়ে সুজাতা বলেছেন, সৌমিত্রও কিছুদিন পর তৃণমূলে ফিরে আসতে পারেন। তাঁর কথার রাজনৈতিক গুরুত্ব যেমনই থাকুক না কেন পুরো ঘটনাটিকেই এখন স্বামী-স্ত্রীর সাজানো কৌশল বলে মনে করছে বিজেপির একাংশ।
ফলতঃ পদস্খলনের খাঁড়া আপাতত সৌমিত্রর মাথার ওপর ঝুলছে বলেই বিজেপি সূত্রের খবর।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news