দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়:
সঙ্ঘের বৈঠকে জোড়া সমালোচনা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের।
সুত্রের খবর সাম্প্রতিক দুটি ঘটনায় দিলীপ ঘোষের ওপর বিরক্ত হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়নে রাজ্য জুড়ে সন্ত্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে গেছিলেন দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, শমীক ভট্টাচার্য সহ রাজ্য বিজেপির নেতৃবৃন্দ। গত মঙ্গলবার এই সাক্ষাতের পর রাজভবনের সামনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন দিলীপ ঘোষ। কোনও এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, রাজ্যপাল কি বললেন? প্রথা অনুযায়ী রাজ্যপালের সঙ্গে কি কথাবার্তা হল তা কখনওই সংবাদমাধ্যমের কথা বলা যায় না। রাজ্যপালের মতো সাংবিধানিক পদকে বলা হয় ‘রিসিভিং এন্ড’। অর্থাৎ রাজ্যপাল শুনবেন। তারপর নিজের মতো বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। প্রয়োজন মনে হলে ‘অ্যাকসান’ নেবেন। কখনওই কোনও রাজনীতিক (বা অন্য কেউ ) রাজ্যপালের সঙ্গে কী কথা হল তা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন না। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে এড়িয়ে যান নইলে ‘উনি বিযয়টি দেখবেন’ জাতীয় নিয়মমাফিক উত্তর দিয়ে কাজ সারেন। এটাই দস্তুর। তবে মঙ্গলবার, দিলীপ ঘোষ বিস্তারিত বলতে শুরু করেন রাজ্যপাল কী বলেছেন! এমনকি রাজ্যপালকে যে তিনি তাঁর অধিকার মনে করিয়ে দিয়ে বলে এসেছেন কি করতে হবে, সে কথাও বলেন দিলীপ। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবদের যে রাজ্যপাল ডেকে পাঠাবেন, সে কথাও রাজ্যপালের দফতর থেকে জানার আগে দিলীপ ঘোষের কাছ থেকেই জেনে যায় মিডিয়া। দিলীপের এ হেন ‘বাগাড়ম্বরে’ ভুরু কুঁচকেছে সঙ্ঘের। সঙ্ঘের শীর্ষ সুত্রের কথায়, দিলীপের এমন আচরনে সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। পার্থ চট্টোপাধ্যায়রা বলতে পারছেন যে বিজেপির কথায় প্ররোচিত হচ্ছেন রাজ্যপাল। মঙ্গলবার যখনই দিলীপ ঘোষ রাজ্যপালের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন সংবাদমাধ্যমকে বলতে শুরু করেছেন তখনই, পাশে দাঁড়ানো মুকুল রায় ও শমীক ভট্টাচার্য তাঁর কিছুটা অবাক হয়েই তাকান। ক্যামেরায় সে ছবি ধরাও পড়েছে। কিন্তু দিলীপের কথার তোড়ে দিলীপ তখন অনেকদুর এগিয়ে গেছেন। তাঁর ঘোড়ায় লাগাম পরায় সাধ্য কার!
অন্যদিকে আরও একটি বিষয় নিয়েও অসন্তুষ্ট সঙ্ঘ। বিজেপির প্রতি সঙ্ঘের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, এবার রামনবমীতে অস্ত্র মিছিল হবে না। সঙ্ঘের আশঙ্কা ছিল, পঞ্চায়েতের আগে, রামনবমীতে অস্ত্র মিছিল করলে পুলিশ ধরপাকড় করবে। তাতে আখেরে ক্ষতি বই লাভ হবে না। সঙ্ঘের আশঙ্কা সত্যি করে বর্তমানে হচ্ছেও তাই। গত কয়েকদিনে ঢালাও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কলকাতায় অস্ত্রহীন রামনবমীর পক্ষেই সওয়াল করেছিলেন মুকুল রায়। তবে দিলীপ ঘোষ ছিলেন তাঁর উল্টো অবস্থানে। তিনি নিজেই হাতে তরবারি নিয়ে ছবি তোলেন। তাঁর হাতে অস্ত্র দেখে সাধারন কর্মীরাও উৎসাহিত হয়।
তবে এই প্রসঙ্গে দিলীপ বলেছেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের উৎসবে হাতে অস্ত্র নিয়েছেন। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।
দিলীপ ঘোষ যুক্তি খাড়া করলেও, সঙ্ঘ তাঁর উপর্যুপরি দুটি কাণ্ড মোটেই ভালো চোখে দেখছে না। সঙ্ঘের মতে এভাবে শাসক দলের পায়েই বল ঠেলে দিচ্ছেন দিলীপ।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news