কিশোর ঘোষ : 
যদি এমন হত—
প্রথম দিন, জনতার ঢলে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে যাওয়ার জোগাড়! নবান্নের সামনের রাস্তায় খোলা আকাশের নীচে ত্রিলোচন আর দুলালের দেহ। রাস্তার ধারে সরু পাড়ের আঁচল মাথায় দিয়ে খটখটে রোদে বসে পড়েছেন বিরোধী দলনেত্রী ‘দিদি’। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উঠবেন না, যতক্ষণ না ন্যায় বিচার হচ্ছে। হয়তো রাজ্য সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু ‘দিদি’র দাবি, সিবিআই তদন্ত চাই। তিনি ছেড়ে কথা বলবেন না, কারণ দলের দুই সক্রিয় কর্মীকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রকাশ্যে।
দ্বিতীয় দিন, পুলিশ প্রশাসন খাবি খাচ্ছে। রাজ্য তো বটেই, পাশাপাশি গোটা দেশের মিডিয়া দুর্দান্ত ‘খাবার’-এর গন্ধ পেয়ে ওবি ভ্যান নিয়ে হাজির। গোটা দেশ সংবাদপত্র আর টিভি দেখে নিন্দা শুরু করেছে ঘটনার। ‘দিদি’ অবশেষে অনশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টোলের কাছে ছোট ম্যারাপ বেঁধে বসে পড়েছেন। তবে লাস পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে শেষকৃত্যের জন্য। সেকেন্ড হুগলি ব্রিজ-এ সকাল থেকে রোড-জ্যাম। বিরোধী কর্মীদের ভিড়ে না, বিরোধী নেত্রী ‘অগ্নিকন্যা’কে দেখতে সাধারণ মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অবশেষে নেত্রী বলেন, রোড ব্লক করতে পারেন না আপনারা। অতএব চলো ধর্মতলা। ওখানেই হবে ম্যারাপ বেঁধে অনশন, ধিক্কার সমাবেশ। একদিন পরে সেখানেই মৃত দুই দলীয় কর্মীর পরিবারের লোকেরা উপস্থিত থাকবেন।
অবস্থা বুঝে ‘বুদ্ধিজীবী’রাও নেমে পড়েছেন ময়দানে। প্রেস কনফারেন্সে ডাক দিয়েছেন শোক মিছিলের, রাজ্যে গণতন্ত্র ফেরাতে। মিছিলে ‘দিদি’কেও ডাক দিয়েছেন তাঁরা। ‘দিদি’ বলেছেন, না। আপনার শিল্পী। আপনারা মিছিলে গান গাইবেন, ছবি আঁকবেন, পদ্য লিখবেন ত্রিলোচন আর দুলালের স্মরণে। আমি করব আমরণ অনশন। সবখানে প্রশংসা শুরু হয়েছে নেত্রীর। সোশ্যাল সাইটে ‘খুনি সরকার’ ইত্যাদি লেখা শুরু হয়েছে।
এমন আরও অনেক, অনেক কিছু ঘটতে পারত। যাকে বলে ঘটনাবহুল বঙ্গ রাজনীতি, তাই হতে পারত ত্রিলোচন আর দুলালের মৃত্যুতে। যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী নেত্রী হতেন আর তাঁর দলের কর্মীকে এভাবে খুন করা হত। কিন্তু কিছুই ঘটল না বিরোধী বিজেপির আমলে!
একা মুকুল রায় আর কত সামলাবেন! তিনিই দিল্লি যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশন আর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে। তিনিই তীব্র গরম উপেক্ষা করে দিল্লি থেকে ফেরার পথে রাঁচিতে নেমে গিয়ে সেখান থেকে গাড়ি করে ছুটছেন পুরুলিয়ায়। কিন্তু প্রশ্ন হল, বাকিরা কোথায়? যত বড় রাজনৈতিক ঘটনা এই জোড়া খুন, ততো বড় করে বিজেপি আদৌ মাঠে নামল না কেন! উচিত ছিল না কি, রাজ্যের উপর মহলের সমস্ত নেতার একজোট হয়ে বলরামপুরে গিয়ে ঘাম ঝরানো? এমনকি দিল্লির নেতাদেরও ঝাপিয়ে পড়া?রাজ্য থেকে দু’জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, একজন নমিনেটেড সাংসদ। বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব রাজ্যের সাধারণ মানুষকে বোঝাতেই পারল না, কী ভীষণ সন্ত্রাসের রাজনীতি চলছে শাসকের তরফে! যে ইসুতে নবান্ন হেলিয়ে দেওয়া যেত, রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের শুরুয়াত হতে পারত, সেই ইস্যুতে একটা ঘাসও ছেঁড়া হল না বিজেপি’র!
খুশি নয় সঙ্ঘ। অতি ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় নিজেদের ক্ষোভ গোপন করছে না সঙ্ঘ। সঙ্ঘের বক্তব্য, তারা নিরলস ভাবে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করে যাচ্ছেন আর বিজেপি নেতারা বিবৃতি দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করছেন না। মুকুল রায়ের বক্তব্য বিষয়টিকে নিয়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন স্তরে কড়া নাড়া হয়েছে। তিনি উদ্যোগী হয়ে ছুটে গেলেও সার্বিক ভাবে বিজেপি এই বিষয়ে গা ঘামালো না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মুকুলের কাছে নেই।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news