সু সেন :
বয়স তখনও আঠারো পার হয়নি, মায়ের অনুমতি নিয়েই বাড়ি ছেড়েছিলেন। অবশ্য রাজনীতিতে তাঁর পথপ্রদর্শক বা দীক্ষাগুরু প্রমোদ দাশগুপ্ত নিষেধ করেছিলেন বাড়ি ছেড়ে দলের কমিউনে এসে কঠিন জীবনযাপনের মত পথ বেছে নিতে। নিষেধাজ্ঞার যুক্তিও ছিল, বালিগঞ্জ প্লেসের ঝাঁ চকচকে লাইফস্টাইল থেকে দিন আনা দিন খাওয়ার লড়াইয়ে নামা তো মুখের কথা নয়। কিন্ত শোনেননি, আর না শোনার খেসরত দিতে রাজনীতিকেই জীবনের ব্রত হিসাবে বেছে নেওয়া আজন্ম বামপন্থী বিমান বসুকে অনেক ঝড়ঝাপটা সহ্য করতে হয়েছিল শুরুতেই। কমিউনে রাত্রে শোওয়ার কোনও বন্দোবস্থ হয়নি প্রথমদিকে। তাই পঞ্চাশের দশকের সেই সময়ে অবিভক্ত কমিউনিষ্ট পার্টির কমিউনে আসা নতুন ছেলেটির জন্য ঘুমানোর ব্যবস্থা হল রান্নাঘরে। কিন্তু সাবেক কালের সেসব রান্নাঘরের যারা আদিম বাসিন্দা তারা আবার নতুন সদস্যের আগমনে মোটেই খুশি নয়। তাই সারা রাত আরশোলার সঙ্গে লড়াই করতে হত মৌলানা আজাদ কলেজের স্নাতক দোহারা ছেলেটিকে.। লড়াইয়ের সেই তাগিদ এই আশির কোঠায় পৌঁছেও একইরকম রাখার চেষ্টা করেছেন
কমবেশি দুই দশকের বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমানবাবু। এখনও মাঠে-ঘাটে রোদ্দুরে দৌড়ে বেড়ানোর একইরকম অদম্য ইচ্ছা। দল বা ফ্রন্টের অনেক নেতার কথায় এখনও বিমানদা যেভাবে দৌড়াতে পারেন তা অনেক নতুন কমরেড পেরে উঠবেন না। মিটিং-মিছিল তো বটেই বামেদের এই ভরাডুবির সময়ে মাঠে নামার নতুন রাস্তা পদযাত্রাতেও অন্য অনেকের চেয়ে বেশি সক্রিয় তিনি। পরিশ্রম করেন তাই নিয়ম মেনে চলেন কঠোরভাবে। বলতে হয় সভা সমাবেশে, তাই প্রবল গরমেও তেষ্টা মেটাতে গরম জল খান। আমিষ আবার বলতে চারাপোনার ঝোল। তাঁর রোজনামচাও ওই মশলা ছাড়া ঝোলের মতই সোজাসাপটা। কমিউনের জীবনই তাঁর আদর্শ, তাই আটের কোঠায় পৌঁছেও বিমান বসুর ঠিকানা আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news