নিজস্ব প্রতিবেদন:
বাবরের তত্বাবধানে ১৫২৮ সালে মির বাকী অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেন। তারপর থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়। এর ৩০৭ বছর পর ১৮৮৫ সালে এই মামলা প্রথম ফৈজাবাদ আদালতে যায়। আবার ১২৫ বছর পর ২০১০ সালে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট এই প্রথম রায় ঘোষণা করে। ইলাহাবাদ হাইকোর্টের সেই রায়কে সম্পূর্ণ খারিজ করে আজ সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে রায় দেয়। সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়কে নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে। হিন্দু-মুসলিম পক্ষ এই রায়ের পরে কী পদক্ষেপ নেবে? এই রায় জানার পর সরকারের কী ভূমিকা থাকবে? তা নিয়েই চ্যানেল হিন্দুস্তানের আজকের প্রতিবেদন———-
১) রায়ে প্রধানত তিনটি কথা বলা হয়েছে। কী কী?
উঃ প্রথমত- এই জন্মভূমি রামেরই তা আপেক্ষিক ভাবে বলা যায়। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মতে, বাবরি মসজিদের নীচে যে কাঠামো পাওয়া গিয়েছে, তা ইসলামিক নয়। দ্বিতীয়ত, মন্দির ও মসজিদ দুটিই নির্মাণ হবে। বিতর্কিত জমিতে মন্দির এবং অযোধ্যার মধ্যে কোনো একটি জায়গায় নির্মাণ হবে মসজিদ। তৃতীয়ত, এখানে কেন্দ্র সরকারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। মসজিদের জন্য জমির ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকারকেই করতে হবে। এছাড়া মন্দিরের জন্য ট্রাস্ট কেন্দ্রীয় সরকারই বানাবে।

২) জমির মালিকানা হিসেবে কার অধিকার থাকবে?
উঃ সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমির পুরোটাই রাম মন্দির তৈরির জন্য দিয়েছে। নির্মোহী আখড়া, হিন্দু মহাসভা, শিয়া এবং সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে এই জমি আলাদা আলাদা ভাগে ভাগ করে দেয়নি। অতএব, এই জমির নির্দিষ্ট কোনো মালিকানা থাকবে না। কেন্দ্র সরকারের তৈরি ট্রাস্টই এর দেখাশোনা করবে।
৩) এই রায়ের ফলে হিন্দু পক্ষ কী পেল?
উঃ সব হিন্দু সংগঠন বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু জমি অধিকার নিয়ে বিবাদ ছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ২.৭৭ একর জমি রাম মন্দির তৈরির জন্য ব্যবহার করা হবে। বিবাদিত জমিতে নির্মোহী আখড়ার অধিকারের দাবি সর্বোচ্চ আদালত খারিজ করে দিয়েছে। কিন্তু ট্রাস্টকে জমি দেওয়ার পর সেখানে নির্মোহী আখড়া থাকবে কিনা তা কেন্দ্র সরকার ঠিক করবে।

৪) মন্দির নির্মাণের প্রক্রিয়া কীভাবে হবে? বা কে বানাতে পারবে?
উঃ মন্দির বানানো ট্রাস্টের কাজ। অন্যদিকে অযোধ্যা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা ‘রাম জন্মভূমি ন্যাস’কে এই কাজের অধিকার সুপ্রিম কোর্ট দেয়নি। কিন্তু সরকার দ্বারা গঠিত ট্রাস্টের মধ্যে একটি অংশ হিসেবে থাকতে পারে ন্যাস। আবার করসেবকরা এতদিন ধরে যা পাথর জোগাড় করেছে, তাতে ৬৫ শতাংশ মন্দির তৈরি হয়ে যাবে। যদি প্রতিদিন ১৫০০-২৫০০ শ্রমিক কাজ করে তাহলে আড়াই বছরের মধ্যে মন্দির তৈরি হয়ে যাবে।
৫) মন্দির তৈরি করতে সরকারের কি ভূমিকা থাকবে?
উঃ সরকারকে ৩ মাসের মধ্যে ট্রাস্ট তৈরি করতে হবে এবং ট্রাস্টকে জমি দিয়ে তাদের কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে। এই ট্রাস্টই মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। সবশেষে ট্রাস্টের কাছ থেকে কাজের খতিয়ান বুঝে নেবে কেন্দ্রীয় সরকার।

৬) এই রায়ে মুসলিম পক্ষ কী পেল?
উঃ বিতর্কিত জায়গা বাদে মুসলিমদের নতুন মসজিদের জন্য অযোধ্যার মধ্যেই জায়গা দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের মতে, প্রথমে ষোড়শ শতাব্দীতে তিন জন করসেবক সেখানে রামের সেবা করত। তারা রামের একটি মন্দির বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সেখান থেকে তুলে দেওয়া হয়। এটাই ছিল মুসলিম পক্ষের ভুল। আর সেই ভুলের জন্যই মুসলিমদের হাতছাড়া হল জমি।
৭) মসজিদের জন্য জমি কোথায়, কিভাবে পাবে মুসলিম পক্ষ?
উঃ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, কেন্দ্র সরকারকে অযোধ্যার পবিত্র ভূমিতে মসজিদ নির্মাণের জন্য সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে ৫ একর জমি দিতে হবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, বিতর্কিত স্থানের বাইরে যে ৬৭ একর জমি রয়েছে, কেন্দ্র সরকার চাইলে তা থেকে ৫ একর মুসলিম পক্ষকে দিতে পারে। ওই ৫ একর জমিনে নিজেরা বা অন্য কাউকে দিয়ে মসজিদ নির্মাণ করতে পারে।

৮) এই রায় কী এখানেই সমাপ্ত হল? নাকি আবার রায় ঘোষণা হতে পারে?
উঃ এটা এখনই বলা সম্ভব নয়। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এই রায়ে খুশি নয়। ফলে তারা আবার রিভিউ পিটিশন জমা দিতে পারে। এআইএমআইএম সাংসদ আসাদউদ্দীন ওয়াইসি এই রায়কে সমর্থন করেননি। অপরদিকে উত্তরপ্রদেশ ও সেন্ট্রাল সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। পূর্ন বিবেচনার জন্য তারা আর পিটিশন জমা দেবেন না বলে জানান।
৯) এই রায়ের পিছনে আদালতের কাছে মুখ্য তিনটি বিষয় কী ছিল?
উঃ প্রথমত, মসজিদের নীচে যে কাঠামো পাওয়া গিয়েছে, তা ইসলাম ধর্মের নয়। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মতে, ওই মসজিদের নীচে একটি মন্দির ছিল। দ্বিতীয়ত, ওই রিপোর্ট আসার আগেই হিন্দুরা দাবি করে ওই স্থান রামের জন্মভূমি ছিল। হিন্দুদের এই আস্থার সঙ্গে রিপোর্ট মিলে যায়। তৃতীয়ত, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড বিতর্কিত জমিতে নিজেদের অধিকার নিয়ে শক্ত প্রমাণ দেখাতে পারেনি। এমনকি সেখানে যে টানা নামাজ পড়া হত, তারও প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news