চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। বৃহস্পতিবার সকালের বিমানে দিল্লি থেকে কলকাতায় আসেন তিনি। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির আগমনের খবরে দমদম বিমানবন্দরে ছিল সংবাদমাধ্যমের তৎপরতা। সেখানেই পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরত আসা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভুমিকা তথা মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন বহরমপুরের সাংসদ। বলেন, “পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে আশা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে অধীর চৌধুরী বলেন, “পরিযায়ী মানুষদের ধীরে ধীরে ট্রেনে ফিরিয়ে আনতে অনুরোধ করেছিলাম, ট্রেনে ওঠার আগে ‘করোনা নেগেটিভ’ সার্টিফিকেট দিতে হবে, নামার পরে আবার পরীক্ষা করে, যেখানে যে যাবে তার ওপর নজরদারি রাখার দাবি করেছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী, আপনি ট্রেন নিতে রাজি হলেন না কিন্তু বাস, ট্রাক, গাড়ি আসতে বাধা রইলো না!!!” তিনি আরও বলেন, “হাজার হাজার বাস, ট্রাক, ছোট গাড়ি বাংলায় প্রবেশ করলো, আপনি তার খেয়াল করলেন না! পরিযায়ীরা আমার রাজ্যের মানুষ, শ্রমিক, ছাত্রছাত্রী, পর্যটক, চিকিৎসা করে ফেরা মানুষ, সবাই এ রাজ্যের মানুষ, তারা কেউ করোনা-দৈত্য নয়, পরিযায়ী মানুষ নিয়ে আপনার বিষোদগার দুর্ভাগ্যজনক।”
কংগ্রেসের (Congress) লোকসভার দলনেতার কথায়, “লকডাউন কেন করতে হয়েছিল? করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মোকাবিলার জন্য স্থায়ী বা অস্থায়ী চিকিৎসা পরিকাঠামো তৈরি করার জন্য, আপনি কিছু করলেন না, আর এখন আপনার নিজের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য পরিযায়ী মানুষদের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন, এটা একজন মুখ্যমন্ত্রী কে শোভা দেয় না।” এ প্রসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, “বাংলায় কবে থেকে করোনা সংক্রমণ শুরু হয়? তখন পরিযায়ী শ্রমিকরা কোথায় ছিল?” প্রসঙ্গত, রাজ্যে প্রথম করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছিলেন রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের এক শীর্ষ আমলার পুত্রের, যে নাকি বিদেশ থেকে ফিরেছিল। বহরমপুরের সাংসদ মুখ্যমন্ত্রীকে সে কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। অধীরের মতে, “বাংলার আপামর মানুষকে অনুরোধ করবো যে আপনার কোরোনা মোকাবিলা করতে যে সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার, দয়া করে তা পালন করুন। বাংলার এক বড় অংশের মানুষ তা মানছেন না, ভুল করে সাবধানতা না মেনে আপনার ও পরিবারের বিপদ ডেকে আনবেন না। করোনাকে অবহেলা বড় পাপ ও গুনহা হতে পারে, নিজেকে নিজে রক্ষা করুন।”
প্রসঙ্গত, মার্চ মাসে লোকসভার অধিবেশন চলায় দিল্লিতেই ছিলেন অধীর চৌধুরী। কিন্তু ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ঘোষণা করে দিলে তিনি আটকে পড়েন দিল্লিতে। সেখান থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়া পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরাহা দিতে উদ্যোগী হন। কংগ্রেসের পাশাপাশি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করে দেন। তৎসত্ত্বেও শ্রমিকরা বাংলায় ফিরতে চায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) ও রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের (Piyush Goel) সঙ্গে ঘনঘন যোগাযোগ করে অনুরোধ করেন এই বিষয়ে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন বাংলায় আসার অনুমতি না দেওয়ায়, তাঁর প্রতি আক্রমণ শানান অধীর চৌধুরী। কার্যত কেন্দ্রীয় সরকার ও অধীর চৌধুরী চাপেই পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন (Sharamik Special Train) আসার ব্যাপারে সম্মতি দেয় রাজ্য সরকার।
সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারি নির্দেশ ছিল রাজ্যে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের যেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। অধীর চৌধুরীর অভিযোগ করেছেন, ট্রেন ছাড়াও পায়ে হেঁটে বাস কিংবা লরিতে চেপেও বহু পরিযায়ী শ্রমিকরা পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন। তাদের কোনওরকম করোনা পরীক্ষা হয়নি। তাই রাজ্যের মানুষকে নিজের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news