ওয়েব ডেস্ক:
কথায় বলে, ‘মা হওয়া কী মুখের কথা!’ মাতৃত্বলাভ করলেই নাকি সম্পূর্ণ হয় নারীর জীবন। যখন মায়ের শরীরের ভিতরেই থাকে শিশু, তখন থেকেই শুরু হয় তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা। কিন্তু যখন স্বপ্ন গড়ে ওঠার আগেই তা ভেঙে যায়, তখন তা এক অব্যক্ত যন্ত্রণার জন্ম দেয়। অসফল মাতৃত্ব এক নারীর জীবনে নানা ধরনের আবেগের জন্ম দেয়। এই যেমন কিছুদিন আগে এক মায়ের তোলা এক হৃদয় বিদারক ছবি সোশাল মিডিয়া তোলপাড় করছিল।

শারন সাদারল্যান্ড নামের মিসোরির ওই মহিলা নিজের ১৪ সপ্তাহের ভ্রুণের সঙ্গে ছবি দেন। প্রথম আল্ট্রাসাউন্ডের কিছুদিন পরেই শারনকে তাঁর চিকিৎসক জানান গর্ভেই মৃত্যু হয়েছে সন্তানের। এরপর তাঁর গর্ভপাত করাতে হয়। কিন্তু শারন হাসপাতালকে অনুরোধ করে, তাঁর মৃত ভ্রুণটি যেন তাঁকেই দেওয়া হয়। নিজের সন্তানকে কবর দিতে চান তিনি। সদ্যসন্তানহারা মায়ের মুখের দিকে চেয়ে শারনকে ভ্রুণটি দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাড়ি এসে ভ্রুণটিকে নিজের কাছেই রেখে দেন শারন । তার ছোট্ট আঙ্গুলে হাত জড়িয়ে ছবিও তোলেন। এরপর ফ্রিজারে ভ্রুণটিকে রেখে দেন তিনি। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলেন, কবর দেবেন বলেই ভ্রুণটিকে রাখা রয়েছে।

এরপর মিসোরি প্রশাসনের কাছে এই অদ্ভূত ঘটনার খবর পৌঁছলে তারা শারনের বাড়ি যআন এবং তাঁকে অবিলম্বে ভ্রুণটিকে ফেলতে বলা হয়। কিন্তু মৃত সন্তানকে কবরই দিতে চান শারন । ফলে প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই নিজের বাড়ির ফুলের টবে ভ্রুণটিকে কবর দেন তিনি।

এই ঘটনা গোটা বিশ্বকে যতটা চমকে দিয়েছে, ততটাই উস্কে দিয়েছে সেই চিরাচরিত প্রশ্ন, অসফল মাতৃত্বের চাপ কী মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে? মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ রীমা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এধরনের কাজ মনোরোগেরই লক্ষন। হয়তো আগে থেকেই প্রচন্ড মানসিক চাপে ছিলেন শারন। তাই নিজের অতিপ্রিয় সন্তানের এভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারেননি তিনি। ডঃ মুখোপাধ্যায় বলছেন, বিশেষ করে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুকে না মানতে চাওয়ার প্রবণতা থাকে। যেমন দেখা গিয়েছিল পার্কস্ট্রিট নরকঙ্কাল কাণ্ডে।
তবে শারন এক্ষেত্রে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা জানা যায়নি। এই ঘটনার পর তাঁর মানসিক রোগের চিকিৎসা করা হচ্ছে কিনা তাও জানা সম্ভব হয়নি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news