নীল রায়:
কলকাতা বিমান বন্দরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলা বন্দোপাধ্যায়ের লাগেজ চেকিং কাণ্ডে নতুন মোড় নিল। এদিন বিমান বন্দরের শুল্ক দফতরের অফিসারকে হেনস্থার অভিযোগে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে নোটিশ পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। এই নোটিশের পরেই নড়েচড়ে বসেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
অভিষেকের স্ত্রীর নামে এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর, বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ তথা মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো। তিনি বলেছিলেন, “ওনার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে উনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।” এমনকি ওই খবর ছাপার জন্য বহু মিডিয়ার বিরুদ্ধে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী। কিন্তু এত কিছুর পরেও পার পেল না প্রভাবশালীর স্ত্রী রুজিরা।
তৃণমূলের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার সওয়াল করেন কংগ্রেসের নেতা তথা আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। যিনি গতবছর মমতার দক্ষিণ্যে বাংলা থেকে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলায় তা অন্য মাত্রা পেয়েছে। আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি যে আবেদন করেছিলেন তাতে কর্ণপাত করেনি সুপ্রিম কোর্ট।
গত ১৫ ও ১৬ মার্চ মধ্যরাতে থাইল্যান্ড থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা নারুলা বন্দোপাধ্যায় ও তার বান্ধবী মেনকা গম্ভীর। কোনও রকম নোটিশ দেওয়া ছাড়াই অতিরিক্ত সোনা বহন করার জন্য রুজিরাকে আটকায় শুল্ক দফতর। এরপরেই প্রভাবশালী স্বামীর ক্ষমতাবলে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে বিধান নগর পুলিশ কমিশনারেট। এমনই অভিযোগ করেন শুল্ক দফতরের আধিকারিকরা।
সারদা মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে ডিভিশন বেঞ্চে এই ঘটনার কথা উল্লেখ করেছিলেন সরকারি আইনজীবী তুষার মেহেতা। বিষয়টি শোনামাত্রই একটি রিপোর্টও তৈরি করেছিলেন প্রধান বিচারপতি। এদিন সেই মামলার শুনানিতে আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি। তাঁদের কথায়, “বাংলায় গুরুতর কিছু হচ্ছে। আমরা একেবারে গভীরে গিয়ে তা দেখতে চাই।” এমন কথা বলে বিমানবন্দরে শুল্ক দফতরের অফিসারদের হেনস্থার ঘটনা নিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news