চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো
শুভেন্দুর ‘সনাতন’ মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে রাজ্য রাজনীতি তে।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারি। তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, বিজেপি ২ কোটি ৪০ লক্ষ সনাতন মানুষের ভোট পেয়েছে।
সনাতন বলতে যে তিনি রাজ্যের সংখ্যাগুরু অংশের কথা বলেছেন তা নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁর এই মন্তব্য তাঁকে শাঁড়াশি সমালোচনার মুখে ফেলেছে। প্রত্যাশিত ভাবেই সমালোচনা এসেছে শাসক দল তৃণমূলের তরফে, একই সঙ্গে সমালোচনা এসেছে বিজেপি-সঙ্ঘের পক্ষ থেকেও।
তৃণমূলের রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ শুভেন্দুর বক্তব্য কে দুর্ভাগ্যজনক এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সাংবিধানিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন।
কুণালের কথায়, “এই ধরনের মন্তব্য কী করে কেউ করতে পারেন তা বলা দুষ্কর। এই নির্বাচনে হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি করে এবং গোহারা হেরেও যে লজ্জা হয় নি, কোনও রকম শিক্ষা হয় নি, তা এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়।’
তৃণমূল কংগ্রেস যে বিরোধী দলনেতার এই কড়া নিন্দা করছেন, তা স্পষ্ট করে দেন কুণাল।
ওদিকে, আক্রমণ আসে গেরুয়া শিবির থেকেও। সঙ্ঘ তথা বিজেপির নেতা, ভগিনী নিবেদিতার জীবনীকার ও রামকৃষ্ণ ভাব আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত লেখক রন্তিদেব সেনগুপ্ত বলেন, ‘এই বক্তব্য দল বা সঙ্ঘ অনুমোদন করে কি? ‘মোদি সব কা সাথের’ কথা বলেন। এর মধ্যে সনাতন আর ভিন্ন ধর্মাবলম্বী আসে কী করে?’
তাঁর প্রশ্ন, শুভেন্দুর কাছে কি এমন কোনও তথ্য আছে, যে যা দিয়ে তিনি বুঝতে পারছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়া আর কেউ বিজেপিকে ভোট দেয় নি?
কুণালের বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা সাযুজ্য রেখেই রন্তিদেব বলেন, ‘এই ধরনের মানসিকতা দেশের পক্ষে হিতকর নয়।’
কুণাল ঘোষও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু কে আক্রমণ করেন। তাঁর কথায়, “যে নন্দীগ্রাম নিয়ে উনি এত কথা বলেন, সেই নন্দীগ্রাম আন্দোলনের শহীদদের তালিকাতেও মুসলিমদের নামই বেশি।”
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে অবশ্য মঙ্গলবার সন্ধে ৮ টা পর্যন্ত যোগাযোগ করা যায় নি। পরে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে ভিন্ন ভাবে বা এই খবরের আপডেট হিসেবে জুড়ে দেওয়া হবে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news