চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো :
মমতা নয়, তৃণমূল আবার ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে পারেন অভিষেক।
এমনই একটি কথা উঠে আসছে তৃণমূলের অন্দরমহল থেকে। বলা ভাল ৩০ এর বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের হাঁড়ির খবর যাঁরা রাখেন, তাঁরাই ব্যক্তিগত আলোচনায় এমন সম্ভাবনার কথা বলছেন।
মমতার ব্যাটন হাতে তুলে নেওয়ার মতো তৃণমূলে আর কেউ এখন নেই। একদা শুভেন্দু দাবিদার হলেও তিনি এখন বিজেপিতে। সিনিয়রদের মধ্যে এই গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার কেউ নেই দলে।
প্রশ্ন হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনই কেন অবসর নিতে যাবেন? সূত্রের খবর, এবারে জিতে আসতে পারলে মমতা দলের কাজে মনোনিবেশ করবেন। পুরনো যে সকল নেতা দল ছেড়ে চলে গেছেন তাঁদের শুন্যস্থান ভরানোর জন্য যোগ্য নেতা তৈরি করার কাজে মন দেবেন মমতা।
এক সময় মমতা নিজেই সংগঠনের কাজ পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছিলেন মুকুল রায়ের ওপর। তার ফলে দল আকারে বাড়লেও, পরবর্তী তে মমতা লক্ষ্য করেছেন দলের একটা বড় অংশের আনুগত্য গেছে মুকুলের দিকে। তাঁকে শ্রদ্ধা সম্মান করলেও, আন্তরিক মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে মুকুলের সঙ্গে। যা পরবর্তী তে মমতার বিপক্ষে গেছে, এখনও যাচ্ছে ও সম্ভবত আরও যাবে। এমনটাই অনুধাবন করেছেন দলনেত্রী।
তাই এবার তিনি ঠিক করেছেন, নির্বাচনের পর, তিনি বা তাঁর দল যদি শেষপর্যন্ত জয়ের মুখ দেখে, তাহলে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসাবেন।
প্রশ্ন উঠছে, তাহলে তিনি অভিষেককে বিধানসভায় প্রার্থী করলেন না কেন?
সূত্রের ব্যখ্যা, সেই রিস্ক এবার নিতে পারেন নি দিদি। সূত্রের আরও ব্যখ্যা, অভিষেক কে সাজানো বাগান নেত্রী একবার দিয়েছেন, আরও একবার তেমন সাজানো বাগানই হাতে তুলে দিতে চান। মুখ্যমন্ত্রীর আসনে অভিষেক কে বসিয়ে দেওয়ার পর ছ’মাসের মধ্যে তাঁকে কোথাও থেকে জিতিয়ে আনা অনেক সহজ।
তৃণমূলের কোনও নেতা অবশ্য প্রত্যাশিত ভাবে এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। নাম না লেখার শর্তে তাঁরা কেউ কেউ যা বলেছেন, তার মর্মার্থ হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন দলের মুখ মাত্র। এমন মুখ যা দেখিয়ে মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করা যায়। দীর্ঘ লড়াইয়ের জীবনে মমতা নিজের যে ইমেজ করেছেন, সেই ইমেজের যতটুকু এখনও পর্যন্ত অবশিষ্ট আছে তা ভাঙিয়ে নিজের উত্তরাধিকারের জন্য সিংহাসন সুনিশ্চিত করতে চান মমতা অথবা ওঁকে দিয়ে এই কাজটি করিয়ে নিতে চাইছে কোনও পাওয়ার সেন্টার!
দলের অন্দরে মমতা ঘনিষ্ঠ পুরনো নেতারা অনেকেই নেই, আর যাঁরা আছেন তাঁদের সাংবাদিক বৈঠক করা ছাড়া তেমন কোনও ভূমিকা নেই। সম্প্রতি মমতার ছায়াসঙ্গী ববি হাকিমের সঙ্গেও সম্পর্কের সুর কেটেছে বলে খবর।
দলনেত্রীর সঙ্গে ববির যে কথাই হোক না কেন (অনুব্রত মমতাকে ব্ল্যাকমেইল করছে) তা কেন তিনি সাধারণ কর্মীসভায় বলবেন? প্রশ্ন উঠেছে এই নিয়েও। ভোট যত এগিয়ে আসছে আড়ালে আবডালে অনেক নেতাই নাকি মুকুলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
মমতা জানেন, দল ছেড়ে যাঁরা গেছেন তাঁরা প্রায় সকলেই যে কারনটি দেখিয়েছেন, সেই কারন অভিষেককেই ইঙ্গিত করে।
এই সব দিক খতিয়ে দেখে মমতা নাকি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, অভিষেক কে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসিয়ে তিনি দলের কাজে মন দেবেন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন মাথায় রেখে তিনি দেশজুড়ে মোদি বিরোধী আন্দোলন তীব্রতর করবেন।
অন্যদিকে, সব শুনে বিজেপির এক রসিক নেতার মন্তব্য, স্বপ্নের পোলাও তে তিনি যতখুশি ঘি ঢালতে পারেন, এই বিষয়ে আমাদের কোনও মন্তব্য নেই।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news